দেশের সংবাদ

হোলি উৎসবে মুসলিম ছাত্র খুন !

পুরান ঢাকার হোলি উৎসবে কলেজছাত্র মুহম্মদ রওনক হোসেন রনো হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে পাঁচ যুবক। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিলিং মিশন শেষে খুনিরা নির্বিঘ্নে সটকে পড়ে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও দুই প্রেমিকাসহ সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে খুনিদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ চার জেলায় অভিযান শুরু করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) জানে আলম মুন্সী যুগান্তরকে বলেন, রনোর খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আজিমপুর নিউ পল্টন লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রনোকে বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে মোবাইল ফোনে রনোকে ডেকে আনে তার সাবেক প্রেমিকা মাইশা। এলাকার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রনো শাঁখারিবাজারে আসে। এরপর তারা পাশের গলিতে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে ২৫ থেকে ৩০ জনের উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন সরাসরি রনোর ওপর হামলা চালায়। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে কিলিং মিশন শেষ করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে খুনিরা। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সাবেক প্রেমিকা মাইশা আলমের বন্ধুরা রনোকে হত্যা করেছে।

সূত্র জানায়, আগে মাইশার সঙ্গে রনোর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরপর ফেসবুকে কয়েক মাস আগে মিরপুরের একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী তহু আশফিয়া ইসলাম ওরফে পলির সঙ্গে রনোর পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছু দিন যেতে না যেতেই পলি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। বয়স না হওয়ায় তিন বছর পর তাদের বিয়ের ব্যাপারে দুই পরিবারের মধ্যে স্ট্যাম্পে চুক্তি হয়। এরপরও পলি রনোকে নানাভাবে বিয়ের চাপ দিতে থাকে। পলির বাবা-মা বিষয়টি জেনে তাকে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে পাঠিয়ে দেয়। ফলে পলির সঙ্গে রনোর দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এটি জানতে পেরে মাইশা আবার রনোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। তাদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা হতে থাকে। মাইশার ফোনেই বন্ধুদের নিয়ে হোলি উৎসবে গিয়ে রনো খুন হয়।

পুলিশ জানায়, খুনের সঙ্গে মাইশা ও রওনকের বন্ধুরা জড়িত। এ ঘটনায় পলিরও হাত থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পর পলি ও মাইশাকে পৃথক ও মুখোমুখি করে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই প্রেমিকা, রওনকের কয়েকজন বন্ধুসহ ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে কয়েকজন। পলি ও মাইশাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও জানায় পুলিশ।

মামলার বাদী ও রনোর মা হেনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, তার ছেলে হত্যার সঙ্গে পলি ও মাইশার হাত রয়েছে। বন্ধুদের দিয়ে তারা রনোকে খুন করিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

 

Back to top button