শিক্ষাস্বাস্থ্য

শেবাচিমে সংঘর্ষ, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

বরিশাল : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ‘রোগী দেখতে যাওয়ার’ ঘটনা নিয়ে স্বজন, শিক্ষানবিস চিকিৎসক ও পুলিশের সঙ্গে ত্রিমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে শিক্ষানবিস চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছে যাচ্ছে। তবে অপর চিকিৎসকসহ অন্যরা সেবা অব্যাহত রেখেছে।

মঙ্গলবার রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মহিউদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- কোতোয়ালি থানার এসআই মোস্তফা, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মহিউদ্দিন, কনস্টেবল কাওসার, কনস্টেবল ফিরোজ, হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ডা. পলাশ ও ডা. শাহে আলম এবং রোগীর ভাই এনামুল হক।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার আজাদ রহমান  জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাকেরগঞ্জের সিরাজুল ইসলাম চুন্নু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। রাতে সিরাজুলকে দেখতে ১০ থেকে ১২ জন স্বজন হাসপাতালে আসেন। এ সময় ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পলাশ অতিরিক্ত লোক দেখে তাদের বেরিয়ে যেতে বললে স্বজনদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে সিরাজুলের স্বজনরা পলাশের শার্টের কলার ধরে টানা-হেঁচড়া করে। এমনকি তার গায়ে হাতও তোলে। খবর পেয়ে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে সিরাজুলের স্বজনদের ওয়ার্ডে আটকে পাল্টা মারধর করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এএসআই মহিউদ্দিনের বিচার চেয়ে স্লোগান দিতে থাকে। পরে এএসআই মহিউদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানান এসি আজাদ রহমান।

এ বিষয়ে এএসআই মহিউদ্দিন বাংলামেইলকে জানান, হাসপাতালে আটকে রেখে রোগীর স্বজনদের মারধরের খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। আমি তাদের রক্ষার চেষ্টা করলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আমার ওপর হামলা চালায়।

সিরাজুলের ছোট ভাই এনামুল হক পান্নু  জানান, বড় ভাই গুরুতর আহত হলেও তার চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছিল না। আমি এর প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আমাকে মারধর করে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন  বলেন, ‘অতিরিক্ত ভিজিটর বের হয়ে যেতে বললে রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এ নিয়ে ঝামেলা শুরু হলে পুলিশের এক এএসআই পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে এক চিকিৎসকে লাঞ্ছিত করেন।’

এএসআই মহিউদ্দিনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষানবিস চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে শিক্ষানবিস চিকিৎসকরা কর্মবিরতি করছেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button