ব্রেকিং নিউজ

লাগামহীন্ন বাড়ি ভাড়ায় দিশেহারা নগরবাসী

Image result for ঢাকা শহর

রাজধানীতে বর্তমানে বাস করছে প্রায় দেড় কোটি মানুষ। কোটি মানুষের ভারে নুয়ে পড়েছে তিলোত্তমা ঢাকা। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছেন কর্মসংস্থান কিংবা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। অথচ এত মানুষের বসবাসের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বেশিরভাগ মানুষের আশ্রয়স্থল ভাড়া বাসা। এদিকে প্রতি বছরই বাড়ছে বাড়িভাড়া। বছরের শুরুতেই বাড়তি বাড়ি ভাড়ার বোঝা নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন রাজধানীর ভাড়াটিয়ারা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়িওয়ালারা বাড়তি বাড়িভাড়া চাপিয়ে দেন ভাড়াটিয়াদের কাঁধে।

চলতি বছরেও বাড়ছে বাড়িভাড়া
কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে আরও একটি নতুন বছর। কিন্তু বছর গেলেই বাড়ির ভাড়াটিয়াদের চিন্তার বিষয় বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে। ডিসেম্বর থেকেই আতঙ্কে থাকেন এই বুঝি বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ এলো। হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর অজুহাতে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য করা হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের। নইলে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। তাই লাখ লাখ রাজধানীবাসী বছর বছর ভাড়া নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার ভাড়াটিয়া বেসরকারি চাকরিজীবী ফারহান আহমেদের ফ্ল্যাটের ভাড়া ছিল ১৭ হাজার টাকা। চলতি জানুয়ারি মাস থেকে সেই ভাড়া করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়া তিন হাজার টাকা বাড়ানোর ব্যাপারে বাড়িওয়ালা জানান, সিটি কর্পোরেশন গৃহকর বাড়িয়েছে। কিন্তু নতুন গৃহকর স্থগিত আছে। বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না বাড়িওয়ালারা। তাদের দাবি, যেকোনো সময় স্থগিতাদেশ উঠে যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতিরপুল, নিউ ইস্কাটন, মগবাজার, বাড্ডা, ধানমণ্ডি, ঝিগাতলা, বাসাবো, যাত্রাবাড়ি, ওয়ারি, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, বারিধারা, মিরপুর, ফার্মগেটসহ পুরো রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকায় বাড়ির ভাড়া বেড়েছে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। দুই সিটি কর্পোরেশনের বেশিরভাগ বাড়িওয়ালারা বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে গৃহকরকে দায়ী করেছেন। অথচ স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশের সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর বাড়ানোর প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।
বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে কারণে-অকারণে বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। বছরের শুরুতে ছাড়াও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেকোনো দ্রব্যের দাম বাড়লেই ভাড়া বাড়িয়ে দেন বাড়িওয়ালারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, গৃহকরবিষয়ক আমাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও বাড়িওয়ালারা যদি এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করান সেটি ন্যায়সঙ্গত হবে না। প্রতি বছর বাড়ি ভাড়া বাড়ছে এমনটা আমরাও জানি কিন্তু সিটি কর্পোরেশন সরাসরি এ ব্যাপারে কিছু করতে পারে না। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) অন্য সংগঠনগুলো এ বিষয়ে আলোচনা কিংবা কোনো পরামর্শ থাকলে সেগুলো আমার সাধ্যমতো সমাধানে চেষ্টা করব।
বাড়িভাড়া না বাড়ানোর দাবি
নতুন বছরে বাড়ি ভাড়া না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে অনেক সংগঠন। ভাড়াটিয়া ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠন বলছে, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১’ সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি চাই আমরা। সংগঠনটির সভাপতি আশরাফ আলী হাওলাদার বলেন, রাজধানীতে দিন দিন লাগামহীনভাবে বাসা ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে। বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। আইন মানছেন না বেশিরভাগ বাড়িওয়ালা। বছর ঘুরলেই বাড়ি ভাড়া বাড়ছে। বাড়ি ভাড়া আদায়ে বাড়িওয়ালারা কোনো রসিদ দিচ্ছেন না। অথচ রসিদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করলে সরকার রাজস্ব পাবে।
ইতিমধ্যে পরিষদের পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন করে কমিশন গঠন, সব ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র দেয়া বাধ্যতামূলক করা, এলাকাভিত্তিক সরকারি নির্ধারিত বাড়ি ভাড়া আইন কার্যকর করা, বাড়ি ভাড়া টাকার রসিদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা।
এদিকে নতুন বছরে রাজধানীর বিভিন্ন মেস ও বাড়ি ভাড়া স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ মেস সংঘ’ নামের আরেকটি সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, রাজধানীতে প্রতি বছরই মেস ও বাড়ি ভাড়া বেড়েই চলেছে। বাড়ির মালিকরা নানা অজুহাতে বাসা ভাড়া বাড়াচ্ছেন। নতুন বছরকে সামনে রেখে আবারও অধিকাংশ বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছেন।
সংগঠনটি বলছে, বাড়ি ভাড়া বাড়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন নিন্ম আয়ের মানুষ। সে সঙ্গে বিপদ বেড়েছে নিন্ম মধ্যবিত্তদেরও। তারা না পারছেন একবারে বস্তিতে গিয়ে থাকতে, না পারছেন ভালো বাসায় থাকতে। লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে বাসা ভাড়া। বাড়ি ভাড়া এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের রাস্তায় থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। বাড়ির মালিকরা যেন কথায় কথায় ভাড়া বাড়াতে না পারেন সে লক্ষ্যে বাড়ি ভাড়া আইন বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান তারা।
আইন আছে প্রয়োগ নেই
১৯৯১ সালে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে একটি আইন প্রণয়ন করা হলেও তা এখনও যথাযথ কার্যকর হচ্ছে না। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিবিধান কার্যকর করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে ২০১০ সালে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে। তবে রুল জারি করার পরেও এর সুফল পাচ্ছে না ভাড়াটিয়ারা। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ আছে, কোনো বাড়ির ভাড়া দু’বছর পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো যাবে না। বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার কাছে জামানত বা কোনো অর্থ দাবি করতে পারবেন না। প্রতি মাসে অবশ্যই ভাড়া নেয়ার রসিদ দিতে হবে, না হলে বাড়িওয়ালা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে এই আইনটি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব পায়নি কোনো মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সরকার প্রথম বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। তবে দেশের কোথাও এ আইনটি যথাযথ কার্যকর হয়নি। বাড়িওয়ালা কর্তৃক নির্যাতনের শিকার ভাড়াটিয়ারা এ নিয়ে বহুবার আন্দোলনও করে। পরে ২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করে।
আবেদনটিতে বলা হয়, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে ভাড়ার রসিদ প্রদান, বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়া, বাড়ি ভাড়া চুক্তিসহ বিভিন্ন বিধান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ বাড়িওয়ালা আইনের বিধান ভঙ্গ করে ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়ে থাকেন। এমনকি বাড়ি ভাড়ার রসিদ দেন না। রিট আবেদনটিতে আরও বলা হয়, ডিসিসি কর্তৃক নির্ধারিত বাড়ি ভাড়া আদায়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বিধি’ প্রণয়নের বিধান থাকলেও আজ পর্যন্ত তা করা হয়নি। ভাড়ার ক্ষেত্রে অনেক বাড়ি মালিকের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে হাজার হাজার ভাড়াটিয়া অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুল ও চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১ জুলাই আদালত রায় দেন। রায়ে বলা হয়, বিদ্যমান আইনটি কার্যকর না হওয়ায় ভাড়াটেকে সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে না। এটি কার্যকর করতে রাষ্ট্রকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। রায়টিতে ভাড়া নির্ধারণের জন্য ছয় মাসের মধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রায় ঘোষণার আড়াই বছরেও বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠিত হয়নি। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বজলুর রহমান রায় ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু গত বছর তিনি মারা যান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যিনি এ রায়টি লিখেছেন, তিনি মৃত্যুবরণ করায় বিষয়টি থেমে আছে। প্রধান বিচারপতি হয়তো রায়টি লেখার জন্য অথবা শুনানির জন্য অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবেন।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন
ভাড়াটিয়ারা প্রায়শই বাড়িওয়ালা কর্তৃক নানা ধরনের অনিয়ম-হয়রানির শিকার হন। বিভিন্ন রকম অনিয়ম-হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশে প্রচলিত রয়েছে ১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন। ভাড়াটে হিসেবে আপনার অধিকার এ আইনে লেখা আছে। এ অধিকার কোনো বাড়িওয়ালা লঙ্ঘন করলে তাকে পেতে হবে শাস্তি। আইন অনুযায়ী বাড়িভাড়া সংক্রান্ত সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য ভাড়া নিয়ন্ত্রক রয়েছেন। সাধারণত জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতগুলো এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আইনটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো :
ভাড়া কেমন হবে : আইনে বাড়ি ভাড়া মানসম্মতভাবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। মানসম্মত ভাড়া সম্পর্কে এ আইনের ১৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না। বাড়ির বাজারমূল্য নির্ধারণ করার পদ্ধতিও বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ১৯৬৪-তে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে। এ ভাড়া বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটিয়াদের মধ্যে আপসে নির্ধারিত হতে পারে। আবার ভাড়া নিয়ন্ত্রকও নির্ধারণ করতে পারে। এটিকে সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য করতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ঢাকা মহানগরীকে দশটি রাজস্ব অঞ্চলে ভাগ করে ক্যাটাগরিভিত্তিক সম্ভাব্য বাড়িভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে।
ভাড়া বৃদ্ধি :

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৬ ধারায় স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া কার্যকরী হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। দুই বছর পর মানসম্মত ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে। এ আইনের ৮ এবং ৯ ধারায় বর্ণিত রয়েছে, মানসম্মত ভাড়া অপেক্ষা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অধিক বাড়ি ভাড়া আদায় করলে সে ক্ষেত্রে প্রথমবারের অপরাধের জন্য মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত যে অর্থ আদায় করা হয়েছে তার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে বাড়ির মালিক দণ্ডিত হবেন এবং পরবর্তী প্রত্যেক অপরাধের জন্য এক মাসের অতিরিক্ত যে ভাড়া গ্রহণ করা হয়েছে তার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে বাড়ির মালিক দণ্ডিত হবেন।
অগ্রিম জামানত গ্রহণ :

কোনো ব্যক্তি ভাড়ার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম, সালামি বা জামানত ভাড়াটিয়াকে দেয়ার জন্য বলতে পারবেন না। ১৯৯১-এর ১০ ও ২৩ ধারা মোতাবেক বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রকের লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কোনোভাবেই বাড়ির মালিক তার ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ এক মাসের বাড়িভাড়ার অধিক কোনো ধরনের ভাড়া, জামানত, প্রিমিয়াম বা সালামি গ্রহণ করতে পারবেন না। তা হলে দণ্ডবিধি ২৩ ধারা মোতাবেক তিনি দণ্ডিত হবেন।
ভাড়ার রসিদ প্রদান :

এ আইনে বাড়ির মালিককে ভাড়ার রসিদ প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এ রসিদ সম্পন্ন করার দায়-দায়িত্ব বাড়িওয়ালার। রসিদ প্রদানে ব্যর্থ হলে ভাড়াটের অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িওয়ালা আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
লিখিত চুক্তি : বাড়ি ভাড়ার চুক্তি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন করে নেয়া যেতে পারে। এর ফলে অনাকাক্সিক্ষত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। চুক্তিপত্রে ভাড়া, ভাড়া বৃদ্ধি, বাড়ি ছাড়ার নোটিশসহ বিভিন্ন বিষয় স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।
গড়ে ভাড়া বেড়েছে আড়াই হাজার
ভাড়াটিয়াদের ১০টি সংগঠন মিলে গঠিত বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া ফেডারেশন জানিয়েছে, চলতি জানুয়ারিতে রাজধানীতে গড়ে আড়াই হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া বেড়েছে। এদিকে দুই সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীতে গৃহকর দেয় এমন বাড়ির সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার। এসব বাড়ির ৭৫ ভাগের ভাড়া বেড়েছে। সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে, ২ লাখ ৫৩ হাজার ১২৫টি বাড়ির ভাড়া বেড়েছে ৬৩ কোটি ২৮ লাখ সাড়ে ১২ হাজার টাকা। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাহারানে সুলতান বলেন, আইনকানুনের তোয়াক্কা না করেই বাড়ি ভাড়া বাড়ছে। ভাড়াটিয়াদের কোনো রসিদ দেয়া হচ্ছে না। অনেক সময় জোর করে ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, নিয়মনীতি না মেনেই বাড়িওয়ালারা প্রতি বছর বাড়ি ভাড়া বাড়ান। হঠাৎ করে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া বৃদ্ধি একজন ভাড়াটিয়ার জন্য বিশাল বোঝা। ১৯৯১ সালে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে আমরা মনে করি সেটি ত্রুটিপূর্ণ। আইনটি এখন পর্যন্ত কার্যকরীও হয়নি। আইনের প্রয়োগ না থাকায় বাড়িওয়ালারা তাদের ইচ্ছেমতো বাড়ি ভাড়া বাড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, নতুন গৃহকরের অজুহাত দেখিয়ে বেশিরভাগ বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া বাড়িয়েছেন। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাড়ি ভাড়া বেড়েছিল ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে দুই কক্ষের যে বাড়ির ভাড়া ছিল ১৯ হাজার। ১৭ সালে সেটি হয়েছে ২১ হাজার। বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।

Spread the love

Related posts