নারী মুক্তির দিশা যাহরা আলাইহাস সালাম এর জন্মদিন আজ

তথাকথিত ইহুদী-নাছারাদের দ্বারা আত্মপ্রকাশকারী সংগঠন “নারীবাদী” “নারী মুক্তি” ইত্যাদি নামে অসভ্য বর্বর, চরিত্রহীন, বিশ্ব বিপর্যয় সৃষ্টিকারী নারী সংগঠন প্রকাশ পেয়েছে।মূলত তারা আরবের তৎকালীন আইয়ামে জাহিলী বংশধরেরই অনুচর।

জাহিলী যুগের লোকেরা নারীদেরকে যেভাবে বেহায়া-বেলেল্লাপনায় অন্যায় অশ্লীল কাজে লেলিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র ভোগ্য বস্তু হিসেবে ব্যবহার করতো; ঠিক তদ্রপ বর্তমানের প্রগতিবাদী নারীবাদীরা এবং তাদের প্রভুরাও সেই বর্বর অসভ্য ও অন্ধকারের যুগের অনুসারী মাত্র।

দ্বীন ইসলাম আসার পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান পরম পরশে নারী জাতির শান, মান, মর্যাদা শ্রেষ্ঠত্ব ও সভ্যতা চির উন্নত হয়ে চিরন্তনভাবে দুনিয়ায় জান্নাতী পরিবেশ সৃষ্টি করে। তার মূলই ছিল পর্দা ও তাক্বওয়া, যা দ্বীন ইসলাম ছাড়া কল্পনা করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। আর দ্বীন ইসলাম এর পূর্ণ আদর্শ হচ্ছেন খাতুনে জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি।

হাদীছ শরীফ এর সুপরিচিত কিতাব ‘হাকিম শরীফ’ ও ‘আহমদ শরীফ’ এ বর্ণিত রয়েছে,হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, জান্নাতের অধিবাসিনী মহিলাদের সাইয়্যিদা হলেন চারজন। (১) উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, (২) হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। (৩) হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম (৪) হযরত আছিয়াহ আলাইহাস সালাম।

সত্যি বলতে কী, হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম নারীদের ব্যাপারে জাহেলি যুগের চিন্তাভাবনাগুলোকে পাল্টে দিয়ে সমাজে নারীর সামাজিক অবস্থান, সমাজে তাদের প্রশিক্ষণমূলক ভূমিকা, তাদের আত্মিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি তুলে ধরেছেন।

হযরত ফাতেমা যাহরা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম ছিলেন গোটা মানব জাতির জন্য অসাধারণ ত্যাগ, বিশ্বস্ততা,সততা,দানশীলতা, ধৈর্য, পবিত্রতা, আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টিসহ অনেক গুণের আদর্শ।

 

হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম ছিলেন একজন আদর্শ জননী, একজন আদর্শ স্ত্রী এবং একজন আদর্শ কন্যা। তিনি জন্ম নিয়েছিলেন এমন এক যুগে যখন নারীর জন্মকে আরবরা কলঙ্ক বলে মনে করতো। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও নারীরা ছিল অবহেলিত ও উপেক্ষিত এবং এমনকি মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি বর্তমান বিশ্বের নারীদের জন্যে আদর্শস্থানীয় তাহলো সামাজিক ক্ষেত্রে তো বটেই এমনকি মূল্যবোধ রক্ষার্থে সংগ্রাম করার ক্ষেত্রেও তৎপর ভূমিকা রাখা নারীর দায়িত্ব।

আজকাল যারা পশ্চিমা নারীদের অনুসরণকেই নারীর মুক্তি ও প্রগতির পথ বলে মনে করছেন তারাও যদি নিজ জীবনে হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করতেন এবং তার সাদা-সিধে ও অনাড়ম্বর জীবন থেকে শিক্ষা নিতেন তাহলে আজকের যুগে তালাক প্রবণতা বৃদ্ধিসহ যেসব জটিল পারিবারিক সমস্যা দেখা যায় সেগুলোর সমাধান সহজ হয়ে যেত

কাজেই নারী জাতির মুক্তি, মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সভ্যতা কেবলমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। এছাড়া সবকিছুই অসভ্য ও বর্বর, লাঞ্ছনা আর গঞ্জনার কারণ।

Spread the love

Related posts