মাদারীপুর শহরের বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেক

মাদারীপুর শহরের শকুনি লেক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। শহরের বিশাল এলাকাজুড়ে এই লেকের সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ফলে এই লেকে প্রতিদিন বিকেল হলে মানুষের আনাগোনা বাড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় নগরায়ণের প্রয়োজনে এই লেকটি খনন করা হয়। বর্তমানে এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে লেকের সৌন্দর্য আরো বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত বছর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে আরো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়। এখন সৌন্দর্য পিপাসু বহু মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকেল ছুটে আসে লেকের পাড়ে। সকালের নির্মল হাওয়া আর বিকেলের পায়চারি শহরবাসীর নিত্যদিনের ঘটনা।

অন্যদিকে লেকের এই বিনোদনকেন্দ্রকে ঘিরে এক শ্রেণির গরিব মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভাসমান ফেরিওয়ালারা পেয়েছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। এরই মধ্যে লেকের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বাইরে থেকেও লোকজন আসছে।

ঘুরতে আসা ফারহানা ইমু, নুসরাত জাহান, আরাফাত রহমান, জুয়েল রানা জানান, এই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা সব বয়সী মানুষের জন্য আছে মুখরোচক নানা ধরনের খাবার দোকান। আরো আছে মিনি চায়নিজ রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুডের দোকান। আছে পিঠাপুলি ও নামিদামি চটপটি-ফুসকার সমাহার। শিশুদের জন্য আছে আকর্ষণীয় খেলনার দোকান। তাই এখানে দিন দিন মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, ১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে প্রমত্তা পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় যখন মাদারীপুর মূল শহরের অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে, তখন নতুন করে শহর স্থানান্তরের জন্য মাটির প্রয়োজনে ১৯৪২-৪৩ সালে এ লেক খনন করা হয়। সেই সময় এই এলাকাটি ছিল জনমানবহীন এবং বনজঙ্গলে ভরা একটি নিম্নভূমি। নদীভাঙনকবলিত তৎকালীন মহকুমা শহরের কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, থানা, জেলখানাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলো স্থানান্তরের জন্য এই এলাকাটি বেছে নেওয়া হয়। কারণ সমতলে এসব স্থাপনা তৈরির জন্য প্রচুর মাটির প্রয়োজন হওয়ায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসন এই লেকটি খনন করে মাটির চাহিদা পূরণ করে।

সুবল বিশ্বাস আরো বলেন, সেদিনের সেই কৃত্রিম লেক আজ এক দৃষ্টিনন্দন সরোবর। মানুষের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র। বাইরের যে কেউ মাদারীপুর শহরে প্রবেশ করে এই লেকের মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হবেই।

সরেজমিন দেখা যায়, এই সৌন্দর্যময় লেকের পশ্চিম পাড়ে আছে লেক ভিউ ক্লাব, ডিসি একাডেমি, ঐতিহাসিক জামে মসজিদ ও ময়দান। দক্ষিণে সার্কিট হাউস, মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তন, জাতীয় মহিলা কল্যাণ সংস্থা ভবন, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবন ও চৌধুরী ক্লিনিক।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘লেকটি মাদারীপুরের সৌন্দর্য। এটি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। দিনে দিনে এই লেকটি পরিচিত ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। আশা করছি ভবিষ্যতে লেকটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিণত হবে।’

Spread the love

Related posts