ড. নীনা আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে দেখতে চান প্রবাসীরা

Related image

প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলের উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে দেখতে চান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তিনি এই রাজ্যের ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র ছিলেন। আসন্ন প্রাইমারিতে জয়ী হলে নীনা আহমেদ ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে লড়ার সুযোগ পাবেন। প্রাইমারিতে জয়ী হতে তিনি জোরেশোরে প্রচার কাজ শুরু করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসাবে শনিবার দুপুরে ড. নীনা আহমেদ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সে একটি সমাবেশ করেছেন। দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে তাকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বেলজিনো পার্টি হলে ‘ফ্রেন্ডস অব ড. নীনা’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে নীনা আহমেদ বলেন, ব্যালট যুদ্ধে ব্যাপকভাবে অংশ নিয়ে আমাদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া জরুরি বলে মত দেন ড. নীনা আহমেদ।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির কো-চেয়ার ও মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মাফ মিসবাহউদ্দিন ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক জেড চৌধুরী জুয়েল এবং আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের (এবিপিসি) সভাপতি লাবলু আনসার।

সমাবেশে অনেকের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক সফররত জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, নিউজার্সির কাউন্সিলম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী, সমাজকর্মী ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন. মজুমদার, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন, ‘পিপলএনটেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আবু হানিফ, ফোবানার নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব জাকারিয়া চৌধুরী।

ড. নীনার সমর্থনে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পেনসিলভেনিয়ার আপার ডারবি সিটির কাউন্সিলম্যান শেখ সিদ্দিক, মিলবোর্ন বরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল হাসান, কাউন্সিলম্যান মনসুর আলী মিঠু, নিউইয়র্কের হাডসন সিটির কাউন্সিলম্যান শেরশাহ মিজান, নিউজার্সির হেলিডন সিটির ম্যানচেস্টার ইউটিলিটিস অথরিটির কমিশনার দেওয়ান বজলু চৌধুরী, নিউইয়র্কের সাবেক স্টেট সিনেটর প্রার্থী ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ প্রমুখ।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ড. নীনা আহমেদ একজন বাঙালি নারী। সবকিছুর ওপরে তিনি মানবিক বিবেকসম্পন্ন একজন মানুষ। এজন্য দলমত নির্বিশেষে সকলেই তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।

নিউজার্সির কাউন্সিলম্যান নূরন নবী বলেন, এখন সময় হচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর। ড. নীনার মত সৎ, পরিশ্রমী, উদ্যমী মানুষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালির উত্থানের পথ সুগম হতে পারবে।

‘পিপলএনটেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আবু হানিফ বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ড. নীনা নিজের সামগ্রিক যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পথ ধরে স্টেট গভর্নর ও পরবর্তীতে ইউএস সিনেটর হতে সক্ষম হবেন, যদি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে পারি।

সমাবেশের শুরুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের মধ্যে পেনসিলভেনিয়াসহ ১৮টি রাজ্যে চার বছর মেয়াদে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে সরাসরি নির্বাচন হয়। এছাড়া অন্যসব রাজ্যে লেফটেন্যান্ট গভর্নর নির্বাচিত হন গভর্নরের রানিং মেট হিসাবে।

Spread the love

Related posts