ব্রেকিং নিউজ

বিলাসবহুল লঞ্চ তৈরিতে প্রতিযোগীতা

Image result for বিলাসবহুল লঞ্চ

রাজধানী ঢাকার সাথে বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চলের নৌপথে এখন অত্যাধুনিক নৌযানের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ গত ২১ মার্চ থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চালু হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও সর্বাধিক বিলাসবহুল যাত্রীবাহী নৌযান ‘এমভি কির্তনখোলা-১০’। বরিশালের নৌ নির্মাণ কারখানায় সম্পূর্ণ দেশীয় লাগসই প্রযুক্তিতে অত্যাধুনিক চারতলার এ নৌযানটির দৈর্ঘ প্রায় সোয়া ৩শ ফুট। জনতা ব্যাংকের অর্থানুকুল্যে গত প্রায় ১৮ মাস ধরে বরিশালের বেলতলা এলাকায় কীর্তনখোলা নদী তীরে সম্পূর্ণ দেশীয় নকশা ও প্রযুক্তিতে নৌযানটি নির্মিত হয়েছে। গত ২১ মার্চ থেকে প্রতিদিন বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বানিজ্যিক পরিচালন শুরু করেছে।

প্রায় ২৫কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত কীর্তনখোলা-১০ দেশের যাত্রীবাহী বৃহত নৌযানগুলোর অন্যতম। প্রায় ১২শ যাত্রী ও ২শ টন পণ্য বহনক্ষম এ নৌযানটির ১৭টি বাতানুকল ভিআইপি কক্ষ যেকোন তিন তারকা মানের হোটেলের সমতুল্য বলে দাবী করেছেন সালমা শিপিং কোম্পানীর এমডি মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস। দ্বিস্তরের তলা বিশিষ্ট নৌযানটিতে একক শয্যার ১০২টি ও ৭০টি দ্বৈত শয্যার বাতানুকুল কক্ষ রয়েছে। নৌযানটিতে ভ্রমনরত অসুস্থ্য রোগীদের জন্য একটি ৩ শয্যার চিকিৎসা কেন্দ্র ছাড়াও একটি কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ স্থাপন করা হয়েছে। ওয়াইফাই ও সিসি ক্যমেরাযূক্ত নৌযানটির নিয়ন্ত্রন কক্ষের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগের লক্ষে কর্মীদের কাছে ওয়াকিটকি থাকছে।

অত্যাধুনিক রাডার, জিপিএস ও ইকো সাউন্ডার সরঞ্জাম সমৃদ্ধ কীর্তনখোলা-১০ ঘন কুয়াশাসহ যেকোন দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা লাভসহ সঠিক দিক নির্দেশনা লাভ করে পরিচালন সম্ভব হবে। নৌযানটির সুকান ইলেক্ট্রো-হাইড্রোলিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালন সম্ভব। ৩ হাজার ১৫০ অশ্ব শক্তির ২টি মূল ইঞ্জিন ছাড়াও নৌযানটিতে ৫শ কিলোওয়াটের ৩টি জেরনারেটর থাকছে। ফলে নৌযানটির ভিআইপি ও সমুদয় প্রথম শ্রেণীর কক্ষগুলো নির্বিঘ্ন বাতানুকল ব্যবস্থা যাত্রীদের সার্বক্ষনিক সাচ্ছন্দ প্রদান করবে।

একই প্রতিষ্ঠানের তত্ববধানে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড-এর আর্থিক সহায়তায় ইতোপূর্বে বরিশালের নৌ নির্মান কারখানায় ‘এমভি কীর্তনখোলা-২’ নামের অপর একটি বিলাসবহুল নৌযানও নির্মিত হয়। নৌযানটি বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে সুনামের সাথে যাত্রী পরিবহন করছে।

নির্মানকাজ সম্পন্ন করে গত ডিসেম্বরের শেষভাগে কীর্তনখোলা-১০ ডকইয়ার্ড থেকে নদীতে ভাসানোর পরে তিনমাস ধরে এর ইনডোর ডেকরেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। দেশের একটি নামি প্রতিষ্ঠান এর ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজ করেছে। কীর্তনখোলা-১০’এর প্রতিটি তলাই অত্যন্ত নান্দনিক শোভা মন্ডিত করা হয়েছে। লোয়ার ডেক ও আপার ডেকে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত শৌচাগারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রথম শ্রেণীর কক্ষ থেকে শুরু করে চলাচলের পথগুলো যথেষ্ঠ দৃষ্টি নন্দন করে নির্মিত হয়েছে।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদিত নকশা ও প্যানেল নৌ নির্মাতাদের সার্বিক তত্বাবধান নির্মিত কীর্তনখোলা-১০ চলাচলের অনুমোদন লাভের পরে বিআইডবিøউটিএ সময়সূচীও অনুমোদন করে। কিন্তু নৌযান মালিকদের একটি অংশ অপত্তি তোলায় এর বানিজ্যিক পরিচালন কিছুটা বিলম্বিত হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে কীর্তনখোলা-১০ বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রী পরিবহনে যূক্ত হবার কথা থাকলেও তা সাময়িক স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তিতে নৌপরিবহন মন্ত্রনালয় ও বিআইডবিøউটিএ থেকে সব বাধা অপসারন করে ২১ মার্চ থেকে দেশের সর্বাধিক বিলাসবহুল নৌযানটির বানিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়।

তবে নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের অনুরোধে সালমা শিপিং লাইন্স কর্তৃপক্ষ কীর্তনখোলা-১০ নৌযানটি মালিক সমিতির অবৈধ ও বেআইনী রোটেশন পদ্ধতির বাইরে নিয়মিত চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠিানটির ব্যবস্থাপনা পরিচলক। কীর্তনখোলা-১০ বরিশাল ও ঢাকা থেকে রাত ৯টা ৫০মিনিটে গন্তব্যে যাত্রা করছে। ফলে দুর দুরান্তের যাত্রীরা নৌযানটিতে ভ্রমনে আরো সাচ্ছন্দ লাভ করছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

বরিশালের নৌ নির্মান কারখানাগুলোতে ইতোপূর্বে নির্মিত ‘এমভি সুন্দরবন-৮, সুন্দরবন-৯, সুন্দরবন-১০ ও সুন্দরবন-১১’ ছাড়াও ‘এমভি সুরভী-৮ ও এমভি সুরভী-৯’ অত্যন্ত নিরাপদ এবং সাচ্ছন্দ ভ্রমনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব নৌযান বরিশাল-ঢাকা ছাড়াও দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে যাত্রী পরিবহন করছে। গত এক যুগে বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন নদী বন্দর থেকে রাজধানীমুখি নৌপথে বেশ কিছু বিলাসবহুল এবং নিরাপদ নৌযান নির্মিত হয়েছে। যার প্রায় সবগুলোই নির্মিত হেেছ বরিশালের স্থানীয় নৌ নির্মান কারখানাগুলোতে।

Spread the love

Related posts