‘তাবলিগের বিশ্বমার্কাজ নিজামুদ্দীনের সহায়তা নেবে না বাংলাদেশ’

Image result for কাকরাইল মসজিদ

কাকরাইলের মসজিদে তাবলিগের কয়েকজন সুরাসদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অচল ছিলো কাকরাইলে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র (মারকাজ)।

মাওলানা সাদের অনুসারী সুরা সদস্যদের অবরুদ্ধ করে তাদের মার্কাজ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো পাকিস্থানের আলমী সুরার অনুগতরা। পরে আইন শৃঙখলা রক্ষাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তারা সরে যায়।

তাবলিগ জামাতের মুরব্বীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ১০-১২টি বাসভর্তি প্রায় হাজারখানেক মাদ্রাসার ছাত্র কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করে।

আগে থেকেও মসজিদে কয়েকহাজার মাদ্রাসা ছাত্র অবস্থান নিয়েছিলো। বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে তারা তালীগের সুরাদের রুম, মাশওয়ারা কক্ষ ও বিদেশী মুসল্লীদের কামরা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ সময় দু’টি নেটওয়ার্ক জ্যামার বসিয়ে মাওলানা সাদের অনূগত শুরাদের সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখে। পরে শুক্রবার দুপুরে রমনা থানার পুলিশ নেটওয়ার্ক জ্যামার ডিভাইসগুলো খুঁজে পায়।

রমনা জোনের এসি এহসানুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি দল ডিভাইসগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তাবলিগ জামাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, এ বছরের বিশ্ব ইজতেমায় তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সাদের আগমনকে কেন্দ্র করে তাবলীগের শুরাগণ দু’টি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

বিবাদ থাকার পরেও কাকরাইলে তারা মিলেমিশেই কাজ করছিলেন। কিন্তু হেফাজতপন্থী রাজনৈতিক কয়েকজন আলেমের চাপে এখন উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।

হেফাজত ও জামাত সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ এ বিবাদকে আরও উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাবলিগ জামাতের দায়িত্বশীলরা।

কাকরাইল মসজিদের একাধিক দায়িত্বশীল ও প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শুক্রবার সারাদিন কাকরাইল মসজিদে আতংকের পরিবেশ ছিলো।

ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান, ডা. আসগর, ভিক্টোরিয়া পার্ক মসজিদের ইমাম মাওলানা আমানউল্লাহ কয়েকহাজার মাদ্রাসা ছাত্র নিয়ে পুরো কাকরাইল মসজিদ অবরুদ্ধ করে রাখে।

এ সময় কাকরাইলের প্রবীণ সুরা মাওলানা মোজাম্মেল ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের রুমে দু’টি নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন করে তারা।

এগুলো বসানোর সময় মাওলানা মোজাম্মেলের ব্যক্তিগত সহকারী সোলাইমানের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদও হয়।

এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতেই শুক্রবার সকালে পরামর্শ সভায় মাওলানা রবিউল হক সিদ্ধান্ত দেন যে, তাবলিগ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আর তাবলিগের বিশ্বমার্কাজ নিজামুদ্দীনের কোন সহায়তা নেবে না।

এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই নিজামুদ্দীনের অনুসারী সুরাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন মাওলানা সাদের অনুসারী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম।

এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক দাবী করে তিনি বলেন, মাওলানা রবিউল হক সহ সকল শুরাদের তো নিজামুদ্দীন থেকেই মনোনীত করা হয়েছিলো।

এখন কোন ক্ষমতাবলে তারা বিশ্বমার্কাজকে উপেক্ষা করেন? শতবছর ধরে তাবলীগের মেহনত সারাবিশ্বজুড়ে একসঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশকে পুরোবিশ্ব থেকে কিভাবে আলাদা করা যায়?

তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে গত বছর অক্টোবরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশের শীর্ষ পাঁচ আলেমের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটির প্রধান গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, তাবলিগের উভয়পক্ষকে নিয়ে সামনে আমাদের বসার কথা ছিলো, কিন্তু এর মধ্যে এমন পরিস্থিতি হতাশাজনক।

তিনি বলেন, উভয়পক্ষই নমনীয় হতে চান না। আমাদের আলেমদের অনেকেও খুব তাড়াহুড়া করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে চান। কিন্তু সংকট নিরসনে দীর্ঘস্থায়ী কিছু পদক্ষেপ দরকার, যার জন্য উভয়পক্ষকেই নমনীয় হতে হবে।

গত দুইদিন কাকরাইলের অচলাবস্থার সঙ্গে বেফাক ও হেফাজতের সংশ্লিষ্টতাকে অস্বীকার করছেন বেফাকের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

তিনি বলেন, রমজানের আগে এমনিতে মাদ্রাসার ছাত্ররা তাবলিগে বের হয়, তাই কাকরাইলে এত মাদ্রাসার ছাত্র অবস্থান নিয়েছে।

এটিকে কেউ হয়তো ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু এর সঙ্গে বেফাক ও হেফাজতের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই।

যুগান্তর

Spread the love

Related posts