ব্রেকিং নিউজ

শ্রমিক সঙ্কটে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

ব্যাপকহারে ইরি-বোরোর চাষে বিগত বছরের তুলনায় চাঁদপুরে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক না পেয়ে কৃষক দিশেহারা। এ কারনে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের আনন্দ এখন নিরানন্দ।

কৃষি জমি ঘুরে দেখা যায়, চাঁদপুরে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। তবে ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকের মুখ মলিন হয়ে পড়ছে। কাল বৈশাখীর সাথে মুসলধারায় বৃষ্টিপাতে মাঠের পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে। কষ্টের ফসল সঠিক সময়ে ঘরে তুলতে না পারায় শঙ্কায় ভুগছে। পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবের মধ্যে নিরুপায় হয়ে উচ্চদরে শ্রমিক মিলছে অল্প পরিমানে।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহম্মদ জানান, চলতি বছরে চাঁদপুর জেলায় ৬১ হাজার ২শ’ ৬৬ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরোর চাষাবাদ হয়। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় রয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪শ’ ৫৩ মে.টন চাল। গেল বছরের চেয়ে ১ হাজার ৩শ’ ৩০ হেক্টর জমি কম চাষাবাদ হয়েছে।

চাঁদপুরে কৃষক সাধারণত হাইব্রিড, স্থানীয় ও উন্নত ফলনশীল এ তিন জাতের ইরি-বোরোর চাষাবাদ করে থাকে। কম-বেশি সব উপজেলাই ইরি-বোরোর চাষাবাদ হয়। প্রবল বৃষ্টিতে এ বছর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি উপজেলায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার মে.টন কম উৎপাদন হতে পারে। এমনই তথ্য জানা গেছে, চাঁদপুর খামার বাড়ি কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে। দেশের অন্যতম দু’টি সেচ প্রকল্প মেঘনা-ধনাগোদা এবং চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থাকা সত্তে¡ও চাঁদপুর খাদ্য ঘাটতির জেলা। এর কারণ, নদী ভাঙ্গনে বিস্তীর্ণ ফসলী জমি বিলীন এবং আবাদী জমির উপর বসতি গড়ে তোলা। তারপরও এ জেলায় ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাষাবাদ হয়।

হাজীগঞ্জ উপজেলার কালোচা উত্তর ইউনিয়নের কৃষক আ. জলিল (৬৫) বলেন, এবার চাষাবাদ করে বিপদে পড়েছি। ধানের মন ৭শ’ টাকা বদলার (শ্রমিকের) রোজ ৮শ’ টাকা। একই উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের চাষি তৈয়ব আলী মোল্লা জানান, আমি ২ কানি (২ একর ৪০ শতাংশ) জমি চাষ করেছি। ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে রয়েছে। শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছিনা। তিনি জানান, শ্রমিক পেলেও ৯টার সময় কাজে এসে দুপুর ১টায় চলে যায়। তাদেরকের রোজ দিতে হয় ৭শ’ থেকে ৮’শ টাকা। তারপরও পাওয়া দুস্কর।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মধ্য বালিয়া দিঘিরপাড় এলাকার গৃহস্থ বাদল গাজী (৪০) এবং কৃষক বিল্লাল গাজী (৬০) জানান, ৩ একর জমিতে এবার ইরি বিআর ২৯ আবাদ করে প্রায় ১৮০ মণ ধান পাবো। ফসল বাম্পার হলেও ধান বিক্রি নিয়ে তারা চিন্তিত। দালালদের কারণে ধান বিক্রি হচ্ছে না। মিল মালিকরা এবং বেপারীরা এখন ধান কিনে না। তারা আরো জানায়, পনর শতাংশে ১ গন্ডা জমিতে ধানের আবাদ করলে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ৮ হাজার টাকা। ধানের মণ এক হাজার টাকা হলেও গৃহস্থেও পোষায় না। তারপরও ৮শ’ টাকায় ধানের মণ পাইলে উৎপাদন খরচ মোটামুটি উঠে আসে।

কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব জানান, এ অঞ্চলে আলু চাষ হওয়ার প্রায় ৩০/৪০ দিন পর ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়। এতে প্রায় সব জমির আলু নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার মাঠ তৈরী করে আলু চাষ করা হয়েছে। ওই আলু তোলার পর আলু ক্ষেতে ধান চাষ করা হয়েছে। দেরীতে ধান চাষ করায় এখনো কৃষক ধান তুলতে পারেনি।

তাই ফসল মাঠেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, যদি সামনের দিকে আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে ফসল কৃষকের ঘরে উঠবে। এই কর্মকর্তা আরো জানান, এ উপজেলায় ইরি-বোরো ফসল লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দূর্যোগের উপর নির্ভর করবে ফসল ভালো পাওয়ার বিষয়টি।

Spread the love

Related posts