ব্রেকিং নিউজ

পাটের সুদিন আসছে

Image result for পাট

সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। সবুজ পাটগাছ সোনালি স্বপ্ন দেখাচ্ছে কৃষকদের। কুমিল্লার কৃষকদের চোখে ফুটে উঠেছে সোনালী আভা। স্বপ্নবিভোর কৃষক আশা করছেন বাম্পার ফলন ও ন্যায্য দামের।

জানা গেছে, এ বছর অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাটের চাষ বেশি করেছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার এলাকার কৃষকরা। উপজেলার প্রায় সব গ্রামেই কমবেশি পাটের আবাদ হয়েছে। আর গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর সঠিক সময়ে পরিমানমতো বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহওয়ায় পাটের ফলনও অন্য কয়েক বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, কুমিল্লার ১৬টি উপজেলার মধ্যে কম বেশ প্রায় সব উপজেলায় পাট চাষ হয়। তার মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়ই সবচেয়ে বেশি পাটের চাষ হয়। এ বছর এই উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। এ ব্যাপারে চারিপাড়া গ্রামের পাট চাষী আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে পাট চাষের উপর আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং সেই প্রশিক্ষণকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি বলেই পাটের ফলন ভালো হয়েছে।

রানীগাছ গ্রামের পাট চাষী জয়নাল মিয়া বলেন, এ বছর পাট চাষ ভালো হলেও পাটে পোকা মাকড়ের অক্রমণ হতে রক্ষা পেতে প্রচুর টাকার কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে। ষাটশালা গ্রামের পাট চাষী বাবলু মিয়া বলেন, পাটের ভাল ফলন হয়েছে এ কথা যেমন সত্য, তেমনি শঙ্কায়ও রয়েছি। যদি ভাল বাজার মূল্য না পাই, তাহলে পাট নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছি, তা বাস্তবে প্রতিফলিত না হয়ে দুঃস্বপ্নেই পরিণত হবে। উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের এই কয়টি গ্রাম ছাড়াও কান্দুঘর, রাজাবাড়ী, বারানী গ্রামের চিত্রও একই রকম।

এ ছাড়া গোমতী নদীসংলগ্ন মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া, রামনগর, আছাদনগর, চন্ডিপুর, মনোহরপুর এলাকায়ও চোখে পড়ে সবুজের দ্রæতি ছড়ানো এ দৃশ্য। কৃষকরা বলছেন, ফলনের পাশাপাশি দামও যদি ভালো পাওয়া যায়, তবে আগামীতে আরো বাড়বে পরিবেশবান্ধব এ আঁশ ফসলের আবাদ। গত কয়েক বছর পূর্বে হঠাৎ করেই পাটের দাম কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি লোকসানের মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরাও।

লাভের আশায় বাজার থেকে পাট কিনে মজুদ করে পরবর্তীতে তা বিক্রি করতে হয়েছে লোকসানে। ফলে বাধ্য হয়েই পাটের ব্যবসা ছেড়ে অন্যদিকে মনোনিবেশ করতে হয় তাদেরকে। একই অবস্থা হয়েছে কৃষকদেরও। লাভের মুখ না দেখে পাট চাষ ছেড়ে দিয়ে ধান চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েন তারা। এতে একটা সময় এসে কুমিল্লা অঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে কমে যায় পাটচাষ। সংকটে পড়ে এক সময়ের সোনালি আঁশের অস্তিত্ব।

কয়েক বছর ধরে প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদেরও পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সোনালি আঁশ ঘিরে সোনালি স্বপ্ন ভাসছে খেটে খাওয়া অজপাড়া গাঁর কৃষকদের চোখে মুখে। বিষয়টির সঙ্গে একমত পোষণ করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.মতিউল আলম বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট কম পরিশ্রমে অধিক লাভজনক একটি ফসল। তবে কৃষকরা যদি পাটের আগাম জাত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ রোপণ করেন তাহলে তারা অনেকটাই লাভবান হবেন। উচ্চ ফলনশীল ও আগাম জাতের পাটের বীজ রোপণ করলে তা স্বল্প সময়ে মাঠ থেকে উঠে আসে এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রকৃতিক সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে না।

পাটের সুদিনের অপেক্ষায় থাকা মনোহরপুর গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক আবদুল বারিক বলেন, একটা সময় পাটই ছিল আমাদের ভরসার ফসল। বাপ-চাচারা কত কষ্ট করে আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে পাট চাষ করতেন। পানিতে ডুবে ডুবে জাগ দিতেন, ভালোভাবে পঁচলে তারপর মাচা পেতে আঁশ ছড়াতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই যেনো সব কিছু নাই হয়ে গেল!

Spread the love

Related posts