কোরবানির অস্থায়ী হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি চেয়ে মেয়রের কাছে রাজধানীবাসীর চিঠি

ঢাকা শহরে কোরবানির হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি চেয়ে মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণের জনগণ।  কুরবানীর হাট অপ্রতুল থাকায় তাদের এলাকাগুলোতে জনগণ কি সমস্যায় পড়ছে তাও চিঠিতে উল্লেখ করেন তারা।  ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ উভয় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়।

রাজধানী উত্তরের রামপুরা থানার জনগণ চিঠিতে জানান, “কয়েক বছর যাবত হাটের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।  ঢাকা উত্তরে মোট জনসংখ্যা ১ কোটি, কিন্তু হাটের সংখ্যা মাত্র ৭টি।  ফলে গড়ে ১৩ লক্ষ জনগণের জন্য হাটের সংখ্যা মাত্র ১টি।”

চিঠিতে আরো বলা হয়, “ প্রতি হাটে এক সাথে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় ব্যাপারীরা গরুর দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে পশুর মূল্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।  ফলে অনেকেই কোরবানী দিতে পারেন না। ” মেয়রের কাছে তারা হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আহবান জানান।

আরেকটি চিঠিতে রাজধানী উত্তরের শেরেবাংলানগর এবং কাফরুল থানা নিবাসীরা আগারগাঁও-তালতলা অস্থায়ী হাট স্থাপনের দাবি তুলেন   তারা জানান, অধিকাংশ হাট শহর থেকে দূরে হওয়ায় পশু ক্রয় করে আনতে গিয়ে তাদের পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পায়।  অনেক সময়  কোরবানীর পশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এছাড়া অন্য চিঠিতে ঢাকা দক্ষিণের শাহবাগথানানিবাসীরা বুয়েট-চাঙ্খারপুল এলাকায় হাট স্থাপনের দাবি তুলেন।  তারা বলেন, নয়াবাজার হাটে পর্যাপ্ত পশু উঠে না।  এছাড়া দূর থেকে পশু আনতে যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তশ্রেণী, যারা একাধিক ভাগায় কুরবানি দেয় তাদের আর্থিক সমস্যা পড়তে হয়।

উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর যাবত ঢাকা শহরে যানজটের কথা বলে হাটের সংখ্যা হ্রাস করেছে সিটি কর্পোরেশন।  এ বছর মাত্র ২৩টি হাট স্থাপনের ঘোষণা দিলেও প্রভাবশালীদের চাপে মাত্র ১৫টির টেন্ডার জমা পড়েছে, বাকি ৮টি হাটের ভবিষ্যত এখনও অনিশ্চিত।  ২ কোটি জনসংখ্যার ঢাকা শহর পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল শহর, মাত্র ২৩টি হাট জনসংখ্যার তুলনায় নিতান্তই কম বলে মনে করেন ঢাকাবাসী।  তাছাড়া যানজট হ্রাস করার কথা বলে হাটের সংখ্যা হ্রাস করা হলেও, স্বল্প সংখ্যক হাটগুলোর উপর শহরবাসীর চাপ পড়ে, ফলে হাটের আশাপাশে নিয়মিত মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে কোরবানির জবাইয়ের স্থান নির্দ্দিষ্ট করার দাবি তোলায় পরিবেশবাদী এনজিও পবা (পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন) ও বাপার (বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন) বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয়েছে এই মর্মে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগ।

Spread the love

Related posts