ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

Image result for সুপ্রিম কোর্ট

বাংলাদেশে সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এ নোটিশটি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তথ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য সচিব এবং আইন সচিবের বরাবরে প্রেরণ করেছেন। নোটিশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮- এর ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারার সংশোধন চাওয়া হয়েছে।

বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল অথবা সংশোধনের উদ্যোগ না নিলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হবে বলেও আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু তার নোটিশে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি তথ্য প্রযুক্তি আইনের বহুল আলোচিত কয়েকটি ধারা বিলুপ্ত অথবা পুনর্বিন্যাস করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা সুরক্ষার অন্তরায় বলে সাংবাদিক নেতারা আপত্তি তুলেছেন। তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও সেমিনারের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য দেশবাসীর নিকট তুলে ধরছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের শিক্ষকরা আজ  (মঙ্গলবার) দুপুর সাড়ে ১২টায়  অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাইদুল ইসলামকে রিমান্ডে নেওয়া ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম  বলেন,‘জনগণকে দমানোর জন্য সর্বশেষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর নামে ডিজিটাল দমন আইন পাস করে, বর্তমান সরকার দমন নীতির শেষ পেরেকটিও মেরে দিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে সাবেক তথ্য কমিশনার ড: গোলাম রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, সাইবার অপরাধ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেবার জন্য আইনের দরকার আছে । তবে গণমাধ্যমের উদ্বেগের বিষয়টিও দেখতে হবে। নতুন আইনে পুলিশকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাতে এ আইনের অপব্যবহার হতে পারে যেমনটি আইসিটি এ্যাক্টের ৫৭ ধারার বেলায় হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা  আইন  পাশ হয়ে গেলেও এর  সংশোধন হতে পারে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো চ্যালেঞ্জ করে সম্পাদক পরিষদ হাইকোর্টে এলে তাদের বিনা ফি’তে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাসমূহ অনতিবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়েছে। আইনটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এই আইনের ব্যাপারে শুধু সাংবাদিক সমাজই নয়, আইনজীবীসহ অন্যান্য শ্রেণি-পেশা এবং সাধারণ মানুষসহ প্রায় সবাই ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্পাদক পরিষদের সাতটি দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এই সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পূর্বের ৫৭ ধারার চেয়েও উদ্বেগজনক। বর্তমান আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অপরিসীম। হরণ করা হয়েছে নাগরিকদের প্রদত্ত সংবিধানিক অধিকার। তাই আমরা সম্পাদক পরিষদের সাত দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি।

Spread the love

Related posts