ওজন বেশি হওয়া কিম্বা কম হওয়া প্রভাব ফেলতে পারে

Image result for ওজন

ওজন বেশি হওয়া কিম্বা কম হওয়া প্রভাব ফেলতে পারে মানুষের আয়ু কতো হবে তার ওপরেও।

এক গবেষণা বলছে, মানুষের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম বেশি হলে সেটা মানুষের আয়ু থেকে চার বছর কেড়ে নিতে পারে।

ব্রিটেনে চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণা সাময়িকী ল্যানসেটে এই অত্যন্ত বৃহৎ পরিসরে করা এই গবেষণার রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে।

ব্রিটেনে প্রায় ২০ লাখ মানুষের ওপর এই সমীক্ষাটি চালানো হয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, মানুষের ৪০ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে, যাদের উচ্চতা, বয়স এবং ওজনের অনুপাত বা বডি ম্যাস ইনডেক্স বিএমআই ভাল থাকে, অসুখে বিসুখে তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনাও থাকে কম।

কিন্তু এই বিএমআই যাদের খারাপ হয়, তাদের জীবনের আয়ুও তুলনামূলকভাবে কম হয়।

এই বিএমআই হিসেব করা হয় কোন একজন মানুষের ওজনকে তার উচ্চতার বর্গ দিয়ে।

ভালো স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয় এরকম বিএমআই হচ্ছে ১৮ দশমিক ৫ থেকে ২৫।

বেশিরভাগ চিকিৎসকই বলেন, কেউ মোটা কি মোটা নয় সেটা বোঝার জন্যে এটাই সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। তাদের মতে এটা নির্ভুল এবং সহজেই মাপা যায়।

গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, একজন মানুষের যতোদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বলে আশা করা হয়, অতিরিক্ত ওজনের একজন নারী ও পুরুষের সেই আয়ু সাড়ে তিন থেকে ৪ দশমিক ২ বছর পর্যন্ত কম হয়ে থাকে।

ডাক্তাররা বলেন, নিয়মিত ব্যায়াম শরীর ঠিক জন্যে একটি ভাল উপায়।

অর্থাৎ যাদের বিএমআই ঠিক নেই তাদের আয়ু কম হয়ে থাকে।

কম ওজনের মানুষের (পুরুষ) আয়ু ৪ দশমিক ৩ বছর আর বেশি ওজনের মানুষের (নারী) আয়ু ৪ দশমিক ৫ বছর কম হয়।

ক্যান্সার থেকে শুরু করে বেশিরভাগ রোগে মৃত্যুর কারণের সাথে এই বিএমআই-এর সংযোগ রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

তবে গবেষক দলের একজন ড. কৃষ্ণান বাশকারান বলেছেন, এর মধ্যে কিছু কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেখা গেছে তাদের বিএমআই ২১ এর নিচে। এথেকে বোঝা যায় ওজন কম হওয়া অসুস্থতার বড় একটি লক্ষণ।”

অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্যই বিএমআই-এর সাহায্যে মানুষের স্বাস্থ্য নির্ধারণ করার উপায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে বেশিরভাগ ডাক্তারই এই বিএমআই পদ্ধতির পক্ষে। তারা বলছেন, মানুষের ওজন বেশি হলেও বিএমআই কমিয়ে রেখে স্বাস্থ্য-ঝুঁকি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন।

Spread the love

Related posts