‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রকল্পে যা আছে

Image result for  ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের সর্বশেষ বিভাগ ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় ‘শেখ হাসিনা বিশ্বিবদ্যালয়’ স্থাপনে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মোট ২৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এসব প্রকল্প বাস্তায়নে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ২৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নেত্রকোনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা হবে ৫০০ একর জমি। নির্মাণ করা হবে ১০ তলাবিশিষ্ট তিনটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের চারটি হল ও প্রশাসনিক ভবন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও থাকবে আবাসনের ব্যবস্থা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনা কর্তৃপক্ষ।

তিনি জানান, ২০১৭ সালে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয় ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’। এখন এর স্থায়ী রূপ দিতে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। গবেষণাধর্মী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের বিষয়গুলো পড়ানো হবে। স্নাতক ও স্নানকোত্তরসহ এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হবে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার পর্যাপ্ত জায়গা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হাওড় অঞ্চলের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওরের অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করতেও শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ইতোমধ্যেই অনেক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। গুণগত মান বজায় রেখে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কাজে লাগানো বস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব।

তিনি জানান, আজকের সভায় মোট ২৮ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তায়নে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ২৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ২৪ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ব্যয় করবে ৫৩৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৪ হাজার ৮৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া বাকি প্রকল্পগুলো

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। জয়িতা ফাউন্ডশনের সক্ষমতা বির্নিমাণ প্রকল্প, এতে ব্যয় হবে ২৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ৩ হাজার ৮০৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ প্রকল্প।

এক হাজার ২৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরে বহাদ্দারহাট বাড়ই পাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। চা বাগানকর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প, এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ৭৪৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্প। ৬২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১টি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন প্রকল্প। ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সারাদেশে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননে নেয়া প্রকল্পম এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম-খুলনা-রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প, এতে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। র্যাব ফোর্সের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, এতে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, এতে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। সোনাগাজীতে ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, ব্যয় দলা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া, বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ, চট্টগ্রামে ৩৬ পরিত্যাক্ত বাড়িতে সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক ফ্ল্যাট, আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ বিশেষ ধরনের পল্টুন নির্মাণ, বৃহত্তর নোয়াখালীর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃহত্তর রাজশাহীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রোহিঙ্গাদের জন্য্য বহুমুখী সেবা প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অনুমোদন দেয়া ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে উপস্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আকাশ আলোকচিত্র ধারণের মাধ্যমে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বৃহৎ স্কেলের টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র প্রণয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দায় শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র, নেয়াখালীর হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে পর্যটন কেন্দ্র, চরফ্যাশন পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা হতে রুমা পর্যন্ত পল্লী সড়ক নির্মাণ, প্রত্যন্ত এবং চর এলাকায় সৌরশক্তি, নদীর ভাঙন থেকে খুলনা শহরের সরকারি স্থাপনা রক্ষা, খুলনা মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলের অবকাঠামো, যশোর বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, বাসস’র সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অনলাইনে গণগ্রন্থাগারগুলোর ব্যবস্থাপনা, মোহনগঞ্জ উপজেলায় শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিচালনার প্রকল্প।

Spread the love

Related posts