ব্রেকিং নিউজ

বিদেশি মানের গয়না তৈরি হচ্ছে দেশেই

নিজস্ব প্রতিবেদক:মোমের আগুনে বাঁকনল ফুঁ দিয়ে সোনার গয়না তৈরির সেই চিরচেনা সনাতন পদ্ধতি উঠে গেছে। এখন গয়না তৈরিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে তুলনামূলক স্বল্প সোনায় কম দামে কম মজুরিতে তৈরি হচ্ছে নজরকাড়া ডিজাইনের বিদেশি মানের সোনার গয়না। এই গয়না রপ্তানির অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৈধপথে সোনা আমদানি করা হলে, এই গয়না রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গয়নায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বর্ণশিল্পে নতুন গতি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে তৈরি সোনার গয়না এখন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি এই শিল্পে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যশোর শহরের সোনাপট্টি ঘুরে অনুসন্ধান চালিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। দেখা গেছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা চিত্র।

ব্রিটিশ-ভারতের প্রথম জেলা যশোরের সোনার কারবারের অতীত ঐতিহ্য রয়েছে। ভারতের পার্শ্ববর্তী এ জেলায় সোনার গয়নার ব্যবহার তুলনামূলক বেশি বলে এখানে অনেক সোনার গয়নার দোকান গড়ে উঠেছে। বর্তমানে অনেক বড় এলাকাজুড়ে শহরের এই সোনাপট্টিতে প্রায় ৩০০ সোনার দোকান রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দোকানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সোনার গয়না তৈরি হচ্ছে। বিদেশি বলে যে নানা রকম দুই আনা থেকে আট আনা পর্যন্ত ওজনের শিকল চেন, পাতি চেন, পাক চেন বিক্রি হচ্ছে, তা যশোরেই তৈরি। এ ধরনের চেন ঢাকায়ও তৈরি হয় বলে সোনা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো মাটিতে বসে নয়, কারিগররা চেয়ার-টেবিলে বসে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গয়না তৈরির কাজ করছে।

তারা জানায়, এখন যন্ত্রের সাহায্যে গয়নার ডিজাইন করা হয়। ডিজিটাল প্রেস কাটাই মেশিন অল্প সময়ের মধ্যে অত্যাধুনিক সব ডিজাইন করে দেয়। গয়না তৈরির বেশির ভাগ কাজই যন্ত্রের সাহায্যে করা হয়। অত্যাধুনিক ডিজিটাল টলস মেশিন এক মিনিটের মধ্যে সোনার মানের ফলাফল জানিয়ে দেয়। যন্ত্রের সাহায্যে গয়নার কাঠামো দাঁড় করানোর পর কারিগররা গ্যাস বার্নারের সাহায্যে কম সময়ের মধ্যে ‘সেটিং করে গয়নার কাজ শেষ করে। হারাধন রায় (৫০) দীর্ঘ ৩০ বছর সোনার গয়না তৈরি করছেন। তিনি বললেন, আগে দুই ভরি ওজনের সোনা দিয়ে যে গয়না তৈরি করেছি এখন যন্ত্রের সাহায্যে এক ভরি সোনা দিয়ে তার চেয়ে অনেক সুন্দর ডিজাইনের নজরকাড়া গয়না তৈরি করছি।’

সোনার ব্যবসার সঙ্গে ২৬ বছর ধরে যুক্ত বাংলাদেশ জুয়েলারি মালিক সমিতির যশোর জেলা শাখার সভাপতি সঞ্জয় চৌধুরী বললেন, ‘ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে  দেশের তৈরি গয়না আন্তর্জাতিক মান অতিক্রম করেছে। এখানে কম মজুরিতে বিদেশি মানের গয়না তৈরি করতে পারছি। ভারতে এক ভরি ওজনের গয়না তৈরির মজুরি সাত হাজার টাকা, মালয়েশিয়ায় আট হাজার টাকা, দুবাইয়ে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু এখানে মজুরি ভরিতে পাঁচ হাজার টাকা। যে কারণে আমরা কম দামে গয়না বিক্রি করতে পারছি।’

Spread the love

Related posts