সরকারের নিবিড় তদারকিতে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: সরকারের নিবিড় তদারকিতে চালসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে তা রোধসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সেলিম আলতাফ জর্জের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
নেত্রকোণা-৩ আসনের অসীম কুমার উকিলের এক প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম—টিকফা (TICFA) কাউন্সিল চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

নেত্রকোণা-৫ আসনের ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, দেশের খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮২২ মেট্রিক টন। বর্তমানে মোট খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৩১৭ মেট্রিন টন। এর মধ্যে ধান এক হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন, চাল ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন এবং গম এক লাখ ৭৫ হাজার ৫২৬ মেট্রিক টন।
ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। খাদ্য অধিদফতর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মধ্যে সমঝোতা স্মারকের আওতায় রোহিঙ্গাদের খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে রোহিঙ্গাদের জন্য এই বাড়তি চাপেও দেশে আপাতত খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা নেই।’
ময়মনসিংহ-৯ আসনের আনোয়ারুল আবেদীন খানের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য আলাদা ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শ্রম কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, জিটুজি প্রক্রিয়ায় সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় নয় হাজার ৯৩৩ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় ২০১৮ সালে এক লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন।
রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে মোট সাত লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এ সময় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৯৭ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বিদেশে কর্মী কম গেলেও রেমিট্যান্স এসেছে অনেক বেশি।
জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানান, বর্তমান (শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭) সারাদেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক ও তদুর্ধ শিক্ষিত বেকার ১০ লাখ ৪৩ হাজার (৪০%)।

Spread the love

Related posts