ব্রেকিং নিউজ

ভারত মহাসাগরে চীনের জোরালো অবস্থান ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তবে নয়াদিল্লী চীনের জাহাজ ও সাবমেরিন মোতায়েনের উপর কড়া নজর রাখছে। ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনিল লানবা এ কথা বলেছেন।

চারদিনের সফরে বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থান করছেন অ্যাডমিরাল লানবা। তিনি বলেন, চীনের মতো আর কোন জাতিই জাহাজ নির্মাণের পেছনে এত ব্যয় করেনি।

জিবুতিতে চীনের রসদ সরবরাহের ঘাঁটি রয়েছে এবং শ্রীলংকার হামবানতোতা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

পূর্ব চীন সাগরে নৌ সীমা নিয়ে জাপানের সাথে বিরোধ রয়েছে চীনের। সেখানে সাগরের ৯০ শতাংশের কর্তৃত্ব দাবি করেছে চীন, যেখানে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই এবং তাইওয়ানেরও পাল্টা দাবি রয়েছে।

লন্ডনের ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে এক কথোপকথনে তিনি বলেন, “চীনের মতো অন্য কোন দেশই জাহাজ নির্মানের পেছনে এত ব্যয় করেনি। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তাদের অবস্থান ও জাহাজ মোতায়েনের উপর আমরা ঘনিষ্ঠ নজর রাখছি.. তারা এখানে স্থায়ীভাবে থাকতে এসেছে”।

ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে চীনা নৌবাহিনীর ছয়টি থেকে আটটি জাহাজ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই সাথে তাদের সাবমেরিনও বিচরণ করছে এই এলাকায়।

‘নৌ কৌশল ও ইন্দো-প্রশান্ত এবং বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থে তার অবদান’ শীর্ষক আলোচনায় অ্যাডমিরাল লানবা বলেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে তিনি কোন চ্যালেঞ্জ দেখছেন না এবং ব্রিটেনের সাথে ভারতের নৌ সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন।

লানবা বলেন, “বিগত বছরগুলোতে আমাদের বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শক্তি উত্তরোত্তর বেড়েছে এবং সেটা পারস্পরিক উপকারের বন্ধুত্বের সম্পর্কে উন্নীত হয়েছে। নৌ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে সেগুলো মোকাবেলার জন্য আমরা সহযোগিতামূলক ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তুলছি”।

ফার্স্ট সি লর্ড এবং ব্রিটেনের চিফ অব নেভাল স্টাফ অ্যাডমিরাল স্যার ফিলিপ জোনস ভারতীয় নৌবাহিনীর পাশাপাশি ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি যে নেতৃত্বের ভূমিকা রাখছে, সেটার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, “দুই নৌবাহিনীর মধ্যে সুস্পষ্ট মিল রয়েছে। দুই বাহিনীর অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, অভিন্ন লক্ষ্য, ভবিষ্যতের ব্যাপারে খুবই সুস্পষ্ট সদিচ্ছা রয়েছে, যেটার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের জাহাজ নির্মাণ কর্মসূচি এবং নৌ উদ্ভাবন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে”।

Spread the love

Related posts