ব্রেকিং নিউজ

তরমুজ চাষ করে লাভবান কৃষকরা

নিউজ ডেস্ক: ইলিশের আড়তে তরমুজ গত কয়েক বছর ধরে তরমুজ আবাদে সফলতা পাচ্ছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার কৃষকরা। তাদের সঙ্গে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরাও তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। এ কারণে এ অঞ্চলে তরমুজের আবাদ প্রতি বছরই বড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে ৪৮ টন করে তরমুজের ফলন হয়েছে। যা ১০ টাকা কেজি দরে কৃষকরা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রথম দফায় তোলা তরমুজেই উৎপাদন খরচ পুষিয়ে গেছে কৃষকদের। বেশি লাভের আশায় তাই মুখে হাসি ফুটে উঠেছে তাদের। কৃষিবিদরা আশা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বরিশাল হতে পারে দেশের সর্ববৃহৎ তরমুজের বাজার।

কৃষি অধিদফতরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, বিভাগের ছয় জেলায় এ বছর ৩৬ হাজার ৯১১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে জমি থেকে যে তরমুজ পাওয়া গেছে, সেই আলোকে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৪৮ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে। পটুয়াখালী জেলায় ২১ হাজার ৬৮২ হেক্টর এবং ভোলায় ১০ হাজার ৪৯১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। সম্মিলিতভাবে বিভাগের ছয় জেলায় এ বছর ১৪ লাখ দুই হাজার ৬০৮ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলার বাজারগুলোতে বর্তমানে ১৫-২০ কেজি ওজনের তরমুজ অপেক্ষাকৃত কম দেখা গেলেও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই সাইজের তরমুজ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। এই সাইজের তরমুজগুলোর দাম বেশি তাই বেশি লাভের আশা করছেন তারা।

ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় বলছে, তরমুজ চাষাবাদ ও বিপননের সঙ্গে যুক্ত ভোলার দুই লাখ মানুষ এ বছর আর্থিকভাবে লাভবান হবে। আগে এসব মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পরিবহন সংকটের কারণে ব্যাপক লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

তরমুজ বোঝাই নৌকাভোলার চরফ্যাশনে বানিজ্যিকভাবে চাষ হয় তরমুজ। সেখানকার কৃষকরা বলেন, এখন পর্যন্ত সার্বিক অবস্থা ভালো। শেষ পর্যন্ত বাজারের কী অবস্থা হয় বলা যাচ্ছে না। তবে মনে হয় এ বছর লাভ হবে। প্রথম পর্বে যে তরমুজ কাটা হয়েছে, তাতে খরচ উঠে গেছে। বাকি তরমুজ যা কাটা হবে তা সবই লাভের অংশে যুক্ত হবে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলে, ‘এ বছর হেক্টর প্রতি কৃষকের তরমুজ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। সেখানে তারা হেক্টর প্রতি চার লাখ টাকার ওপরে আয় করেছে। কিন্তু প্রতি বছর যাতায়াত খরচ বাড়ায় লাভের বড় একটা অংশ ওই খাতে ব্যয় হয় কৃষকদের। তারপরও কৃষকরা লাভ করবেন বলে আশা করি।’

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এ জেলায় ২১ হাজার ৬৮২ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। ফলিত তরমুজ প্রথম দফায় কৃষকরা ইতোমধ্যে কেটেছে। এতেই কৃষকরা সব খরচ পুষিয়ে নিয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা তরমুজ কাটা হলে কৃষকরা তিনগুণ লাভ করতে পারবে।

ট্রাকে তরমুজ বোঝাই করা হচ্ছে এছাড়া বরগুনা জেলায় চার হাজার দুইশ হেক্টর, বরিশাল জেলায় তিনশ ৯৭ হেক্টর, পিরোজপুরে ১২১ হেক্টর ও ঝালকাঠিতে ২০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে বরিশালের তরমুজের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, জেলা শহরের পোর্ট রোডের ইলিশের আড়ত দখল করেছে তরমুজ। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ট্রলারে বিভিন্ন স্থান থেকে এ আড়তে তরমুজ আসছে। এই আড়ত থেকে তরমুজ যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আড়তদাররা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫টি ট্রাকে তরমুজ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর পোর্ট রোড এবং খালজুরে থাকে তরমুজের ট্রাক ও ট্রলার। এখানে কৃষকরা তরমুজ এনে তা আড়তে বিক্রি করছেন। তরমুজ বিক্রি করতে আসা কৃষদের মুখে হাসি। আরও দুইবার তরমুজ উত্তোলন করতে পারবে কৃষকরা। ওই দুইবারে যা উত্তোলন করা হবে, তার সবটাই লাভ থাকবে বলে জানান কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক সাহিনুর আজম খান বলেন, ‘দোআঁশ ও বেলে মাটি তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বানিজ্যিকভাবে আরও বেশি তরমুজ চাষাবাদ করা হলে, এ অঞ্চলে দেশের সর্ববৃহৎ তরমুজের বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’

Spread the love

Related posts