ব্রেকিং নিউজ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের তেল রফতানির ওপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর জানায়।

সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম বিন আবদুল আজিজ আল-আসাফ বলেন, সৌদি আরব বিশ্বাস করে মার্কিন সিদ্ধান্ত ইরানের সরকারের ওপর চাপ বাড়বে। এতে শান্তি নষ্ট করা বন্ধ এবং সন্ত্রাসবাদের জন্য তাদের বিশ্বব্যাপী সমর্থন শেষ হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের জন্য কোনো বিবেচনা ছাড়াই ইরানি শাসন বিপজ্জনক নীতি অনুসরণ করে দেশের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ থাকলে অন্যদেশে হস্তক্ষেপ করা বন্ধ হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সোমবার বলেছে, ভারতের মতো বন্ধুরাষ্ট্রও যদি ইরান থেকে তেল আমদানি করে, নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। ইরানের প্রতি এই আগ্রাসী মনোভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক মার্কিন দাবি অগ্রাহ্য করবে বলে জোর দিয়ে জানিয়েছে।

এই কঠিন মার্কিন পদক্ষেপের কারণে বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বাজারে ইরানি তেল কমে গেলে সৌদি আরব সেই ঘাটতি পূরণ করবে।

ইরানের তেল রফতানি কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের রাজস্ব আয়ের শীর্ষ মাধ্যমটিকে লক্ষ্য বানিয়েছে। কাজেই মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব কমিয়ে আনতে ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অস্থিতিশীল তৎপরতার অবসানে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার মিত্ররা অনড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বছর ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর প্রাথমিকভাবে আট দেশকে ছয় মাসের জন্য তেল কেনায় ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানি তেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতাদের একটি হচ্ছে ভারত। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইরানকে হুমকি বলে যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র করছে, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছে ভারত।

পাকিস্তানকে পাশ কাটাতে ইরানে সমুদ্রবন্দর নির্মাণে কাজ করছে ভারত। কাজেই একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের জটিলতা পর্যালোচনা করে দেখছে ভারত।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে চীন ও তুরস্ক। কাজেই ইরানি তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্র অটল থাকলে এ দুই দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নতুন বিতর্ক তৈরি হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী ২ মের পর যেসব দেশ ইরান থেকে তেল কিনবে, তাদের শাস্তি পেতে হবে। তবে কীভাবে সাজা দেয়া হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলছি- যদি আপনি এ নীতি অমান্য করেন, তবে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। আমরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাব।

এ ছাড়া গ্রিস, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানও ইরান থেকে তেল ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় বসবেন। সর্বশেষ সময়সীমা নিয়ে সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করবেন।

Spread the love

Related posts