জাতীয়

বাংলাদেশের ওষুধের বাজার দ্রুত বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ব্যক্তি খাতের মূল্যায়ন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংস্থা ইউএসএআইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে দেশে ওষুধ শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজার ছিলো ২৪৪ কোটি ডলার। ২০২৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭৬০ কোটি ডলারে।

প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, বাংলাদেশে ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজারের ব্যাপ্তি ২৪৪ কোটি ডলারের। বার্ষিক রফতানির পরিমাণ ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। খাতটিতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার জন, যার ৮০ শতাংশই বিপণন ও সরবরাহকেন্দ্রিক। এছাড়া খাতটিতে দক্ষ মানবসম্পদের তীব্র অভাব রয়েছে, যা খাতটির প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলোর অন্যতম। এছাড়া শিল্পে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও কমপ্লায়েন্স ইস্যুতেও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তবে তা সামান্য।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওষুধ শিল্প দেশের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল উৎপাদন খাত। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের মোট প্রবৃদ্ধিতে ওষুধ শিল্পের অবদান ছিল ১ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে এর হার ছিল দশমিক ৯৩ শতাংশ। তবে শিল্পটির ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশই অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল।

শিল্পটির প্রায় অর্ধেক মার্কেট শেয়ার এখন প্রথম সারির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের দখলে। এছাড়া মোট বাজারের ৭০ শতাংশ দখল করে নিয়েছে প্রথম ১০টি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে মার্কেট শেয়ার রয়েছে মাত্র সাড়ে ১০ শতাংশ। মার্কেট শেয়ারের দিক থেকে বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে স্কয়ার গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির একার দখলে রয়েছে মোট বাজার ব্যাপ্তির ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইনসেপ্টা ও বেক্সিমকো। এর মধ্যে ইনসেপ্টার দখলে রয়েছে ১০ দশমিক ২ শতাংশ। সাড়ে ৮ শতাংশ রয়েছে বেক্সিমকোর দখলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পটির ওপর সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। সরকার বর্তমানে এ শিল্পের আমদানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে রফতানি বাড়াতে কাজ করছে। ২০১৮-২১ সালের রফতানি নীতিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এপিআই খাতকে। ২০১৬ সালে শিল্পটির কাঁচামালে আমদানি নির্ভরশীলতা ছিল ৯৭ শতাংশ। ২০৩২ সালের মধ্যে তা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে পাঁচ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

Related Articles

Back to top button
Close