জাতীয়

বাঘের হামলায় নিহত ২, ফিরে এলো ১ জন

বাগেরহাট সংবাদদাতা: সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত দুই মৎস্যজীবীর মরদেহের সন্ধান এখনও মেলেনি। তবে জীবিত থাকা অপর মৎস্যজীবী আবু মুছা বাড়ি ফিরেছেন। রোববার সীমান্তের মাওন্দি নদী পার হয়ে শ্যামনগরের কৈখালী ফরেস্ট স্টেশন এলাকা দিয়ে বাড়ি ফেরেন ওই মৎস্যজীবী।

সেই দিনের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে আবু মুছা বলেন, আমি, একই এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে রতন ও আমার ভগ্নিপতি একই গ্রামের মনো মিস্ত্রির ছেলে মিজানুর রহমান গহিন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ভারতে গরু আনতে যাই। নদীপথে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় রাত হয়ে যায়। এ সময় আমরা জঙ্গলের পাশে সাতঝিলের খাল নামক স্থানে নৌকা রেখে রাত কাটাই। ভোরে নৌকার ওপর একটি বাঘ লাফিয়ে পড়ে। তিন জনের মধ্যে বাঘ টার্গেট করে মিজানকে। এ সময় মিজানকে বাঁচাতে রতন বাঘের ওপর হামলা করে। বাঘ তখন মিজানকে ফেলে রতনের ওপর হামলা করে এবং তাকে মেরে ফেলে। এরপর বাঘটি মিজানকে নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে চলে যায়।

বাঘ আক্রমণ করলে আমি নদীতে লাফিয়ে পড়ে নৌকার পাশে নাক বের করে রেখে প্রাণে বেঁচে যাই। এরপর নৌকার নিচে থেকেই কৌশলে বাঁধন খুলে ভাটির টানে দূরে চলে যাই। একসময় আবার উজানে নৌকা বাইতে থাকি। এভাবে দিক ও পথ হারিয়ে ফেলি। এ সময় নৌকার ওপর থাকা একটি মোবাইল ফোন আচমকা বেজে ওঠে। পরে সেই মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে খবর দিই- বলেন আবু মুসা। এরপর থেকে মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকায় কথা বলতে পারেনি বলেও জানান তিনি।

আবু মুছা জানান, ভারতীয় সীমান্তের মাছ ধরারত জেলেরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে সে দেশের একটি বাড়িতে আশ্রয় দেন। এরপর তাদের সহযোগিতায় তিনি সীমান্তের বকচর নামক স্থান দিয়ে দেশে ফিরে আসেন।

গতকাল (২৪ জানুয়ারি) সকালে মুছার পরিবারের লোকজন সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেন। বাড়িতে ফিরে আসার পর আবু মুছা কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। স্থানীয় চিকিৎসায় তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ঘটনার বিবরণ দেন।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এমএ হাসান জানান, ঘটনার পর থেকেই মুছা তার মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে ছিলেন। সে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার নাটক করছে। স্থানীয় খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মুছা ভারতে ছিলেন না, দেশেই ছিলেন। তবে আত্মগোপনে।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকাল থেকে সুন্দরবনে তিন জন নিখোঁজ হয় বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। নিখোঁজ তিন জনকে মৎস্যজীবী বলা হলেও তারা মূলত চোরাকারবারি বলে জানায় একাধিক সূত্র। পরে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে ভারতের সীমাখালী খাল থেকে দুই জনের লাশ উদ্ধার করে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী (বিএসএফ)।

Back to top button