কৃষিজাতীয়

ভোলায় ভুট্টার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে

নিউজ ডেস্ক : জেলার ৭ উপজেলায় ভুট্টার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ২২৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তার আগের বছর ২০১৯-২০ সালে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে এবং ২০১৮-১৯ সালে ২ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয় ভুট্টার। প্রতি বছরই এর আবাদ বাড়ছে কয়েকগুণ। এবছর হেক্টর প্রতি প্রতি ৮ মেট্রিকটন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা র্নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুট্টা চাষে পরিশ্রম কম, লাভজনক ও সরকারি প্রণোদনা প্রদাণের ফলে চাষিরা ভুট্টা চাষে আগ্রী হয়ে উঠছে। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ভুট্টার ব্যাপক আবাদ হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে এ জেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, সাধারণত কার্তীক অগ্রাহায়ণ মাসে মাঠের ধান তোলার পরই জমি পরিচর্যা করা হয়। পৌষের দিকে লাগানো হয় ভুট্টার বীজ। মাঘের শেষ পর্যন্ত আবাদ চলে। বৈশাখ মাসের শেষ দিকে ফসল ঘরে তোলা হয়। সাম্প্রতিক জেলায় ভুট্টার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর আবাদ বাড়ছে। বিভিন্ন ফাস্টফুড ও চাইনিজে ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। এছাড়া প্রাণী খাদ্য হিসাবেও ভুট্টা ব্যবহার করা হয় ব্যাপক। ভুট্টা চাষে কম পরিশ্রম, বিগত বছর ভুট্টার ফলন ও লাভ ভালো হওয়ায় অনেক কৃষকই এবার ভুট্টা চাষ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: হুমায়ুন কবির জানান, জেলায় কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহী গড়ে তুলতে সরকারিভাবে ২ হাজার কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি কৃষককে ২ কেজি উন্নত বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদাণ করা হয়েছে। এছাড়া ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ৩০০ টি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে জেলায় এবছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২২৮ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৮ হেক্টর জমি বেশি। সাধারণত উচুঁ ও মাঝারী উচুঁ জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়। প্রতিবছর সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও ভুট্টা চাষে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছে।

সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলী ইউনিয়নের কৃষক মো: লোকমান হোসেন ৬০ শতাংশ জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। নিজ জমিতে সরকারিভাবে বীজ ও সার পাওয়াতে এবার তার খরচ অনেকটাই কম হয়েছে। তিনি বলেন, ২ বছর হলো তিনি প্রথম ভুট্টার চাষ করেছেন। ভুট্টা চাষে লাভ বেশি হয় বলে তিনি এতে আকৃষ্ট হয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোন রোগ-বালাইর প্রভাব নেই তার ফসলে। আশা করছেন অধীক ফলনের মাধ্যমে লাভবান হবেন।
একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেক জানান, তিনি ২০ শতাংশ জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। সরকারি প্রণোদনা পাওয়াতে তিনি প্রচন্ড খুশি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ বলেন, এ জেলায় এবছর সুপার সাইন ২৭৬০ ও কহিনুর জাতের চাষ বেশি করা হয়েছে। আর রোগের মধ্যে ফল আর্মি ওয়াম ও কাটুই পোকার আক্রমণ হয়। তাই কৃষকদের রোগ দমনে করণীয়, বীজ রোপণ, পরিচর্য়া ইত্যাদি বিষয়ের সঠিক নির্দেশনা ও সব ধরনের পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Back to top button