শিক্ষা

চার কোটি শিক্ষার্থী পাবে নতুন বই, অপেক্ষা উৎসবের

ঢাকা: সারাদেশে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। স্কুল পর্যায়ে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এখন চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের অপেক্ষা।

নতুন পাঠ্যপুস্তক উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এখন অপেক্ষা উৎসবের
সারাদেশের প্রাক-প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, কারিগরি, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আট বছরে সর্বমোট বিতরণ করা পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১২৮টি।

রোববার (১ জানুয়ারি) সারাদেশে নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদযাপিত হবে বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সকাল সাড়ে ৯টায় আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসবের আয়োজন করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকার ৩১টি স্কুলের ৫ হাজারের অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ উৎসব উদযাপন করা হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ উৎসবে উপস্থিত থাকবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি ছাড়াও বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

এছাড়াও থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান।

২০১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ২ কেটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৩ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৫২ কপি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায়।

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে সম্পূর্ণ নতুন, চার রঙা ও আকর্ষণীয় পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে ই-বুকের ব্যবস্থা। প্রবাসের বাঙালি শিশুদেরও বই উৎসবে সামিল রেখেছে সরকার। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের অধীনে বিদ্যালয়গুলোতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই সরবরাহ করছে এনসিটিবি।

এবার ক্ষুদ্র -নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজস্ব বর্ণমালা সম্বলিত মাতৃভাষায় পাঠ্যবই প্রণয়ন এবং সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে সারাদেশে ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদরী) শিক্ষার্থীরদের মঝে ৮ ধরনের পঠন-পাঠন সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

এদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন রোববার সকাল ১০টায় সারাদেশে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ২০০ জন কোমলমতি শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক ও কিতাব বিতরণ করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক,বয়স্ক ও সহজ কোরআন শিক্ষার মোট ৫১ হাজার ৫৬৮টি কেন্দ্রে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button