জাতীয়বিবিধরাজনীতিশিক্ষা

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার নেপথ্যে কারা? তাদের এ কুকর্ম মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা হলে ধার্মিক ব্যক্তির স্বাধীনতা কি?

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা মানুষের সম্ভ্রমহানীর থেকেও ন্যাক্কারজনক অপরাধ। অথচ ধর্মানুভূতিতে হামলাকারী লুকিয়ে থাকা এক অখ্যাত প্রকাশককে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে বের হয়ে এসেছে মিুক্তচিন্তার বেশধারী গুটিকয়েক নাস্তিক। তারা আস্ফালন করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে বলে উঠে, “খুনিদের ধরতে পারেন না, অথচ লেখককে ধরছেন”।
আসলে এরাই বারবার দেশটাকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অযথাই মানুষের ধর্ম
বিশ্ধবাসে আঘাত করছে। এ্রই সব কর্ম কাণ্ডের পিছনে এদর কোন সুদুরপ্রসারী দূরভিসন্ধি রয়েছে। শুরুতেই এদর গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা দরকার। নতুবা বড় ধরণের নাশকতার ঘটনা এরাই ঘটাবে।

ব-দ্বীপ প্রকাশনের স্টল বন্ধ এবং সংস্থাটির কর্ণধারকে গ্রেপ্তারের পরদিন বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ‘লেখক-প্রকাশক-পাঠক-জনতা’ ব্যানারে এক অখ্যাত সংগঠন মাত্র জনা দশেক তথাকথিত মুক্তমনাদের নিয়ে মানববন্ধন করে।

মুখে কালো কাপড় বেঁধে এই কর্মসূচিতে তারা অংশ নেয়।

মানববন্ধনের সময় সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতা বিতর্কিত চরিত্রের অধিকারী লাকী আক্তার ব-দ্বীপ প্রকাশনের মালিক শামসুজ্জোহা মানিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনারা অভিজিতের হত্যাকারীকে ধরতে পারেন না, আপনারা খুনিদের স্ট্যাটাস পড়ে মুক্তচিন্তার মানুষকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।”

মুক্তচিন্তার লেখালেখির নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কারণে উত্তেজিত মানুষের দ্বারাই অভিজিৎ রায় গত বছর মেলা চলার সময় টিএসসি এলাকায় খুন হয়। এধরণের খোঁচামারা লেখালেখির কারণে কে বা কারা তাদের হত্যা করে বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

এবারের বইমেলায় ব-দ্বীপ প্রকাশনের মালিক শামসুজ্জোহা মানিক সম্পাদিত সঙ্কলন গ্রন্থ ‘ইসলাম বিতর্ক’র বিরুদ্ধেও দেশের সাধারণ মুসলমানেরা ইন্টারনেটে লেখালেখিতে সরব হয়েছিল।

বইমেলায় ব-দ্বীপ প্রকাশনার স্টল এখন বন্ধ।
এরপর গত সোমবার রাতে পুলিশ মেলায় ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দেয়। তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়ে প্রকাশক শামসুজ্জোহা, মুদ্রাকর তসলিমউদ্দিন কাজল এবং ব-দ্বীপের বিপণন শাখার প্রধান শামসুল আলমকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ।

এতে দেশের সাধারণ মানুষ সরকার ও পুলিশ বিভাগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিতর্কিত চরিত্রের এই তথাকথিত ছাত্রনেতা বলে, “মুক্তমনা মানুষের কান্না, বেদনার অনুভূতি রাষ্ট্রের কানে পৌঁছায় না, তাদের কানে পৌঁছায় জামায়াত-শিবিরদের অনুভূতি। যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে, সরকার তাদের গ্রেপ্তার-নির্যাতন করে।”

এভাবেই তারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত করছে আর তাদের এই নিকৃষ্ট কর্মের প্রতিবাদ করলেই তাকে জামাত শিবির আখ্যা দিয়ে চাপিয়ে রাখতে চাইছে। তাদের এই কৌশল বুঝে নেয় সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

ব-দ্বীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেছিলেন, “ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আমরা জানতে পারি, ব-দ্বীপ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘ইসলাম বিতর্ক’ বইটিতে ইসলাম ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।

“পরে অনুসন্ধানে বিতর্কিত লেখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বইটিতে মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দও পাওয়া গেছে।”

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেছিলেন, “পুলিশ আমাদের বলেছে, ‘ব-দ্বীপ প্রকাশনীর স্টলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে- এমন বই প্রদর্শিত হচ্ছে। স্টলটি নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’ এ কারণে প্রকাশনীটির স্টল বন্ধ করা হয়েছে।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ‘মানবতার মুক্তি চাই, মুক্ত চিন্তার বিকল্প নাই’, -এই স্লোগান দ্বারা তারা ইসলামী অনুভূতিতে হামলা করাকে তাদের মুক্তচিন্তা বলে বৈধ করার অপচেষ্টা করেছে। আসলে তাদের েএই চিন্তা মূলত অশান্তি সৃষ্টির কুটনকশা। ‘
অবরুদ্ধ মুক্তবুদ্ধি জেগে ওঠো, রুখে দাঁড়াও’, ‘বইমেলায় পুলিশি আগ্রাসন রুখে দাঁড়াও’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এভাবে তারা সরকারের ও পুলিশের কাজকে আগ্রাসন বলে আখ্যা দিয়েছে।

তাদের এ কাজকে প্রকাশ্যে দেশদ্রোহীতার মত দু:সাহস বলে মন্তব্য করেছেন অনেক সমাজ বিশ্লেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button