জাতীয়বিবিধ

বাংলাদেশের সাথে জিসোমিয়া চুক্তি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

-বিশেষজ্ঞদের তীব্র প্রতিবাদ ও সতর্কতার ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় সফররত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী র‌্যান্ডল শ্রাইভার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পরস্পরের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নিবিড় করতে চায়। আর আকসা ও জিসোমিয়ার মতো চুক্তি সেই আকাঙ্খা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গত বুধবার সে একথা জানিয়েছে।

সে জানায়, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে পরের ধাপে নিতে যুক্তরাষ্ট্র মৌলিক দুই প্রতিরক্ষা চুক্তি আকসা ও জিসোমিয়া সইসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। ঢাকা সফরে এসে এ বিষয়ে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হলো, তা নিয়ে সে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তার এই চুক্তির আকাঙ্খার তীব্র বিরোধীতা করেছেন দেশের সামরিক ও পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন এই দুই চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত্বের জন্য মহাহুমকির কারণ। কারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতার নামে আকসা ও জিসোমিয়া নামক দু’টি চুক্তির কথা প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছে। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে বাংলদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক এলাকা। ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির বিষয়ে জোরদার করার কথা বলে এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারলে ভবিষ্যতে তা বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই আমরা এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের ঠুনকো অজুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুনিয়ার দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন চালিয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া তার সাম্প্রতিক উদাহরণ। ফলে যেখানে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা প্রবেশ করেছে সেখানেই মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। জনগণের ঐক্যে বিভক্তি ধরিয়ে তার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ-চরিতার্থ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে যেকোনো উপায়ে প্রবেশ করতে চাইছে, যা ভবিষ্যতে সামরিক হস্তক্ষেপ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তাই এমন কিছু ঘটার আগেই এ দেশের জনগণকে এ চুক্তির প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার মতো বিষয়গুলো এই সফরে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ ফিরে এলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হোক। যাতে করে তাদের ফেরত পাঠানোটা টেকসই হয়।

মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা আছে কি না, তা জানতে চাইলে র‌্যান্ডল জানিয়েছে, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ঢলের পর একেবারে নেই বললেই চলে। তবে আসিয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যে সহযোগিতা আছে, তাতে মিয়ানমার অংশ নিয়ে থাকে।

Back to top button
Close
Close