কৃষিজাতীয়

সরিষা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

বান্দরবান সংবাদদাতা: সরিষা চাষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাবলম্বী হয়েছেন এমন কৃষকের সংখ্যা মোটেও হাতেগোনা নয়। দেশের প্রায় সব স্থানে সরিষা চাষ করা গেলেও কয়েকটি এলাকায় এর উৎপাদন অপেক্ষাকৃত কম। এ রকমই একটি এলাকা পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলা।

তবে চলতি মৌসুমে সরকারি খরচে ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছে বেশ কয়েকজন কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এতে করে হাসিও ফুটেছে কৃষকদের মাঝে। কিন্তু যথাযথ উদ্যোগের অভাবে এখনো সরিষা চাষে পুরোপুরি আগ্রহী হচ্ছেন না বেশির ভাগ কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো বেশি কৃষকদের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করলে, ক্ষতিকারক তামাক চাষের পরিবর্তে এ উপজেলার কৃষকরা সরিষা চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। পাশাপাশি সব পতিত জমি সরিষা চাষের আওতায় আসবে বলে জানান কৃষিবিদরা। এই ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় সরকারিভাবে ১০ জন কৃষক ৬ হেক্টর ও নিজ উদ্যোগে আরো প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন ২৫-২৬ জন কৃষক। সাবেক বিলছড়ি গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী পতিত ৩৩ শতক জমিতে কৃষি অফিসের প্রণোদনায় সরিষা চাষ করেছেন। এসব সরিষা কেটে বিক্রি করে তিনি টওায় ৩৫ হাজার টাকা পাবেন বলে ধারণা করছেন। তিনি বলেন, সরিষার আবাদ শেষে ওই জমিতে অনায়াসে বোরো চাষও করা যাবে। অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত সরিষার আবাদ করা যায়।

তার মতো একই গ্রামের কাজী নজরুল ইসলাম, গজালিয়া ইউনিয়নের আকিরাম পাড়ার বাসিন্দা প্রিতমা ত্রিপুরাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরো প্রায় ২৫-২৬ জন কৃষক সরিষা চাষ করেছেন। তাদের জমির পরিমাণ ৫ হেক্টরেরও বেশি হবে। নিজের জমিতে কয়েক বছর ধরে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করছেন গজালিয়া ইউনিয়নের কৃষক হাসানুল। তিনি বলেন, কম খরচ ও অল্প দিনের পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভ হওয়া যায় সরিষা চাষে। তাই অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকরা জমিতে সরিষা চাষ করছেন। তবে ফাসিয়াখালী, রুপসীপাড়া ও গজালিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষকর্  বলেন, সরিষা দূরে থাক সবজি উৎপাদনে কোন সমস্যা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পাওয়া যায়না। এ কারণে কৃষকরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।

Back to top button
Close
Close