বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

নিজস্ব মোবাইল যন্ত্রাংশ তৈরি করছে ওয়ালটন

প্রযুক্তি ডেস্ক : মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ তৈরিতে সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এ খাতে বিনিয়োগ করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। তাদের দাবি, নিজস্ব চাহিদার পুরোটাই মিটছে দেশে তৈরি পণ্যের মাধ্যমে।

ওয়ালটন সূত্র জানায়, দেশে মোবাইল ফোন এক্সেসরিজের বিশাল বাজার রয়েছে। এর বার্ষিক চাহিদা এক হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব এক্সেসরিজের মধ্যে রয়েছে ব্যাটারি, চার্জার, ইয়ারফোন, ইউএসবি কেবল, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাককভার, স্ক্রিন প্রোটেক্টর ইত্যাদি। বিশাল চাহিদার সিংহভাগ মিটছে আমদানির মাধ্যমে। ফলে, এ খাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে। দেশে মোবাইল ফোন ব্যাটারির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪ কোটি। এর বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকা, যার ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। চার্জারের চাহিদা আনুমানিক ৫ কোটি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা। এর ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ইউএসবি কেবলের চাহিদা প্রায় ৫ কোটি, যার বাজারমূল্য ১৫০ কোটি টাকা। ইয়ারফোনের চাহিদা প্রায় ৬ কোটি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটির টাকা, যার প্রায় ৯৯ শতাংশই আমদানিনির্ভর। দেশের বাজারে চাহিদা মেটাতে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন শুরু করেছে ওয়ালটন।

ওয়ালটন ছাড়াও দেশে মোবাইল ফোন এক্সেসরিজের বেশ কিছু ক্ষুদ্র শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে রয়েছে অনিক টেলিকম, ইমাম টেলিকম, একটিভ টেলিকম, হালিমা টেলিকম, শাহী টেলিকম, রিম্যাক্স, মোবাইল পার্ক সিটি ইত্যাদি।

ওয়ালটন মোবাইলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম রেজওয়ান আলম বলেন, মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওয়ালটন দেশে নিজস্ব কারখানায় এক্সেসরিজ তৈরি করছে। ওয়ালটন তাদের হ্যান্ডসেট এবং এক্সেসরিজের চাহিদার পুরোটাই স্থানীয় কারখানায় তৈরি পণ্যের মাধ্যমে পূরণ করছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে রয়েছে অত্যাধুনিক কারখানা। ওই কারখানার মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০ লাখ ফিচার ফোন এবং ৮ লাখ স্মার্টফোন। হ্যান্ডসেট ছাড়াও এ কারখানায় মোবাইল ফোনের অন্যান্য এক্সেসরিজ তৈরি করছে ওয়ালটন। যার মধ্যে রয়েছে চার্জার, ব্যাটারি, ইয়ারফোন, হাউজিং (কেসিং) ইত্যাদি। ওয়ালটন বর্তমানে প্রতি মাসে ১০ লাখ চার্জার, ৫ থেকে ৬ লাখ ব্যাটারি এবং আরও ৫ থেকে ৬ লাখ ইয়ারফোন তৈরি করছে।

ওয়ালটন মোবাইলের অপারেটিভ ডিরেক্টর ফাহিম রশীদ জানান, বর্তমানে তাদের কারখানায় মাসে যে পরিমাণ এক্সেসরিজ উৎপাদিত হচ্ছে, তার দ্বিগুণ পরিমাণ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ এখনই ওয়ালটন কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক ২ কোটি ৪০ লাখ পিস চার্জার, ১ কোটি ২০ লাখ পিস ব্যাটারি এবং আরও ১ কোটি ২০ লাখ পিস ইয়ারফোন। সরকারি নীতিনির্ধারণী মহল থেকে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা পেলে ওয়ালটন এখনই দ্বিগুণ এক্সেসরিজ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনাভাইরাস ইস্যুতে চীন থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।  বাংলাদেশ এ সুযোগটা নিতে পারে। এ জন্য দরকার প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দেওয়া। যাতে মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজনের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ কারখানাও গড়ে ওঠে। হ্যান্ডসেটের পাশাপাশি যাতে এক্সেসরিজ কারখানাও গড়ে ওঠে, সে জন্য আমদানি নিরুৎসাহিত করে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন উৎসাহিত করা জরুরি। দেশেই মোবাইল ফোন এক্সেসরিজ কারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি করা সম্ভব হবে। ফলে একদিকে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। অন্যদিকে প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি খাতও সমৃদ্ধ হবে।

Back to top button
Close
Close