জাতীয়

উপজাতি সন্ত্রাসীদের দমনে সেনাবাহিনী চায় পাহাড়ী বাঙালীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এতে করে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে পাহাড়ী বাঙালীরা। তারা জানিয়েছে, আমরা এখন মহা শঙ্কার মধ্যে আছি। সরকার থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেয়ার পর উপজাতি সন্ত্রাসীদের থেকে একের পর এক চিঠি আসছে। যাতে লেখা থাকছে ‘পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী সরে গিয়েছে। এবার তোদের দেখে নেবো’।

জানা গেছে, সরকার পাহাড়ীদের সাথে শান্তিচুক্তির ফলেই পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বলার বিষয় হলো, শান্তিচুক্তিতে বলা রয়েছে যে, জনসংহতি সমিতির সন্ত্রাসীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সাথে সাথে পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত বাস্তবায়িত হতে হবে। অর্থাৎ পাহাড়ী উপজাতি সন্ত্রাসীরা সরকারের কাছে আত্মসমর্পন করলেই কেবল পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী সরে যাবে।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, জনসংহতির গুটিকয়েক সদস্য বাদে প্রায় সব সন্ত্রাসীই এখনও পাহাড়ে দেশবিরোধী সন্ত্রাসীমূলক কাজে লিপ্ত রয়েছে। যার কারনে পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহার সরকারের একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারন শান্তিচুক্তির শান্তিচুক্তির ঘ খন্ডের ১৭(ক) ধারায় বলা রয়েছে- “আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ক্ষেত্রে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজে দেশের সকল এলাকার ন্যায় প্রয়োজনীয় যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা যাইবে।” উল্লিখিত বাক্যটি বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায় তা হচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ক্ষেত্রে বা জাতীয় অন্যান্য দরকারে রাষ্ট্র প্রয়োজনানুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের যেখানে প্রয়োজন যে কোনো ফর্মেশনে সেনাবাহিনী রাখতে পারবে। আর এই ধারায় অনুযায়ী পাবর্ত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী থাকা বাধ্যতামূলক।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, জেএসএসের সকল সন্ত্রাসী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। জেএসএস ও তার সকল সদস্যকে অস্ত্র সমর্পণ করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারেনি। চুক্তি অনুয়ায়ী ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জেএসএসের অস্ত্র সমর্পণের সময় চুক্তির বিরোধিতা করে অস্ত্র সমর্পণ না করে তাদেরই একটি অংশ জেএসএস থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইউপিডিএফ নামে নতুন সংগঠন গড়ে তোলে। এরপর স্বার্থগত দ্বন্দ্বে জেএসএসও ভেঙে জেএসএস (এমএন লারমা) নামে নতুন আরো একটি সংগঠন তৈরি হয়। এদিকে জেএসএসের মূলের সামরিক শাখাও সম্পূর্ণরূপে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। এই তিন পাহাড়ী সংগঠন প্রকাশ্য ও গুপ্ত দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ে প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। খুন, অপহরণ, সম্ভ্রমহরণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চাঁদা ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ নাগরিক তো দূরে থাক, সরকারী কর্মকর্তাদেরও বসবাস অসম্ভব। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনটি পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠনের নির্ধারিত চাঁদা দিতে না পারলে সেখানে বসবাস যে কারো জন্যই অসম্ভব। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে সাধারণ পাহাড়ীদেরও জিম্মি করে তাদের নির্দেশিত পথে পরিচালিত করতে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়, পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখ-তা, বাঙালি ও সরকার বিরোধী নানা তৎপরতায় লিপ্ত। এরূপ পরিস্থিতিতে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার শান্তিচুক্তির শর্তানুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকের অনেকে এ কথা বহুবার বলেছেন যে, সেনাবাহিনী না থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বহু আগেই বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তো। এ কাজে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ৩৫১ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৩৮৪ জন এবং অন্যভাবে ২২৭ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সরে আসেনি। এখনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রীয় নির্দেশ পালনে নিয়োজিত। অর্থাৎ পাহাড় আর সেনাবাহিনীর সম্পর্ক ওতপ্রোত!

পার্বত্য বাঙালি গণমঞ্চের নেতা শওকত আকবরের মতে, তাদের অঞ্চল থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করার পরই বাঙালিদের উচ্ছেদ করে তাদের বিপুল পরিমাণ বৈধ জমি পাহাড়ীরা দখল করে নিয়ে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে। সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ৫শ গজের মধ্যেই পুলিশ রয়েছে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা পুলিশকে থোড়াই কেয়ার করছে, আর পুলিশও সেদিকে ভ্রƒক্ষেপ করছে না। এরকম ঘটনা তিন পার্বত্য জেলার সর্বত্রই। অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম সেনাবাহিনী শুন্য হওয়ার আগেই এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর দেশবিরোধী দালালদের কথায় যদি সরকার পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী গণহারে প্রত্যাহার করে তাহলে উল্টো পার্বত্য চট্টগ্রামই হবে দেশের অখন্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

Back to top button
Close
Close