কৃষি

দায়বদ্ধতায় ফসল উৎপাদন করেও ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত চাষীরা

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা:  দেশে যাতে খাদ্য সংকট তৈরি না হয় তার জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদনে মাঠে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে ঘাম ঝরানো উৎপাদিত সেই ফসল বাজারজাতকরণ নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। এতে করে কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

জেলার সদর উপজেলার বেলগাছি, মাখালডাঙ্গা, দ্বীননাথপুর, গাড়াবাড়িয়া গ্রামসহ প্রতিটি গ্রামেই দেখা গেছে মাঠে থাকা বিস্তীর্ণ জমির ধান কাটছেন কৃষকরা। লক্ষ্য খুব দ্রুততম সময়ে ধান কেটে পরবর্তী ফসলের জন্য বীজতলা প্রস্তুত করা। কেউ কেউ আবার ভুট্টা কাটার পর নতুন করে বোরো ধান লাগাতে ব্যস্ত। শুধু ধান নয়, মৌসুমি ফল তরমুজ, কদু, পেঁপে, বেগুন, শশা, করলা, ধনেপাতাসহ নানা ধরনের সবজি উৎপাদনে দিনরাত পরিশ্রম করছেন কৃষকরা।

চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গা গ্রামের কৃষক লতিফ ম-ল জানান, মাঠে ধান কাটতে তাদের আরও কয়েকদিন সময় লাগতো। তারপরও তারা আগেভাগেই ধান কাটছেন। খাদ্য সংকট যেন দেখা না দেয় সেজন্য দ্রুত সময়ে এ ধান কেটে বাজারে বিক্রি করা তাদের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নতুন ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন তারা।

অপর কৃষক রহমান মোল্লা জানান, শত বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে তারা মাঠে আছেন। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই সংকটে তারাও সরকারকে সহায়তা করতে চান।

তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে কৃষকের ঘাম ঝরানো উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ নিয়ে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাইরের জেলা থেকে ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীরা জেলায় আসতে না পারায় এ সংকটের মূল কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। এমন বাস্তবতায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দীন জানান, আগে তাদের উৎপাদিত পণ্য মাঠ থেকে ক্রয় করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা আসতো। কিন্তু তারা আসতে পারছেন না। চাষিরা যে নিজ জেলা থেকে ট্রাকে করে নিয়ে যাবেন সেখানেও বিপত্তি। ঢাকাতে পরিবহন খরচ যেখানে ১০ হাজার টাকা ছিল তা এখন দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে বাম্পার ফলন ফলিয়েও নতুন এক সংকটের মধ্যে এ জেলার কৃষকরা।

কৃষি উদ্যোক্তা খাইরুল ইসলামের মতে, কৃষি শিল্পে এমন বিরুপ প্রভাব দ্রুত কাটিয়ে ওঠা না গেলে দেশের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাবে। এমন বাস্তবতায় দ্রুত এ সংকট নিরসনসহ কৃষি ও কৃষকদের বাঁচাতে সরকারি প্রণোদনাসহ বিশেষ সহযোগিতার দাবি তার।

Back to top button
Close
Close