অর্থ-বাণিজ্যবিবিধ

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাউকে ঋণখেলাপি করা যাবে না

নিউজ ডেস্ক : লকডাউনের প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই প্রভাব মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের নানাভাবে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে তারল্য প্রবাহ বাড়াতেও নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

এরই অংশ হিসেবে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার নিয়ে দ্বিতীয় দফা বাড়ানো হল। এই দফায় বাড়িয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেছে। অর্থাৎ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি কোনো ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করতে না পারলে তাকে ঋণখেলাপি করা যাবে না।

এর ফলে গত ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে তাকে ঋণখেলাপি করা যাবে না। তাদের ঋণ নিয়মিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের ঋণ সুবিধা দেয়া যাবে।

এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে মেয়াদি ঋণ সমন্বয়ের সীমা ৯ মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবশ্যই সমন্বয় করতে হবে।

লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে লেনদেনের পরিমাণ কমে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকার প্রবাহও কমে যায়। যে কারণে অনেকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯ মার্চ একটি সার্কুলার জারি করে সব ধরনের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় ৩০ জুন পর্যন্ত।

ওই সময়ের মধ্যে কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে তাকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসেনি। যে কারণে অনেক গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অর্জিত হয়নি। এ কারণে এর মেয়াদ আরও তিন বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যমান মেয়াদি, স্বল্পমেয়াদি, কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণসহ সব ধরনের ঋণের বিপরীতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব কিস্তি পরিশোধের কথা সেগুলো বকেয়া হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে যেসব ঋণ পরিশোধ করার কথা সেগুলোর মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়বে।

আগামী অক্টোবর থেকে এসব ঋণের কিস্তির সংখ্যা ও পরিমাণ পুনর্নির্ধারিত হবে। আলোচ্য ঋণের যত কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল সেগুলো সমহারে তা বৃদ্ধি পাবে।

এতে আরও বলা হয়, আলোচ্য সময়ে মেয়াদি ঋণের কোনো গ্রাহক কিস্তি পরিশোধ না করলে তিনি কিস্তি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবেন না। বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে ১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যমান চলমান ও তলবি ঋণ সমন্বয়ের মেয়াদ থেকে ৯ মাস বা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মধ্যে যেটি আগে হবে সেই পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এ সুবিধা চালাকালীন ঋণের বিপরীতে প্রচলিত হারে সুদ আরোপ করা যাবে। তবে কোনো দণ্ড বা অতিরিক্ত সুদ আরোপ করা যাবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, কোনো গ্রাহক এ সুবিধা গ্রহণ করতে না চাইলে আগে নির্ধারিত পরিশোধসূচি অনুযায়ী বা ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে আলোচ্য সময়ে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করলে ঋণ মানের উন্নতি হলে তার আলোকে খেলাপি ঋণ থেকে বাদ দেয়া যাবে। তবে ১ জানুয়ারির আগে অর্থাৎ গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব গ্রাহক ঋণখেলাপি ছিলেন তারা এই সুবিধা পাবেন না। কেবল ১ জানুয়ারি থেকে যেসব গ্রাহকের ঋণ নিয়মিত হিসাবে রয়েছে তারাই এ সুবিধা পাবেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ জুন অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে গত এপ্রিল ও মে এই দুই মাসের ঋণের ওপর আরোপযোগ্য সুদ আংশিক মওকুফ করেছে।

Back to top button
Close
Close