আন্তর্জাতিক

অবকাঠামো সঙ্কটে ভুলছে ভারতীয় সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের পর পূর্ব লাদাখের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী যে অতিরিক্ত ৩০,০০০ সেনা মোতায়েন করেছে, তাদের জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছে সেনাবাহিনী।

বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কয়েক রাউণ্ড সামরিক আলোচনার পরও অচলাবস্থা এখনও বজায় রয়েছে। সেনাদেরকে পূর্ব লাদাখের তুষারাবৃত উচ্চতায় শীতকাল কাটাতে হবে।

শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো অবশ্য দ্য প্রিন্টকে বলেছে যে, যেহেতু ওই এলাকায় সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরণের ঘাটতি রয়েছে, সে কারণে শীতের চরম আবহাওয়ার মধ্যে সেখানে অতিরিক্ত সেনাদের টিকিয়ে রাখাটা কঠিন কাজ হবে।

এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তের কাছাকাছি এবং কিছুটা ভেতরের দিকে সেনাদের থাকার জন্য ব্যবস্থা করা। রসদ মজুদের ব্যবস্থা, সড়কের জায়গা এবং বিশেষ সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের জায়গা।

একটি সূত্র জানিয়েছে যে, লাদাখের পরিস্থিতি সিয়াচেনের চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং। সিয়াচেন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু যুদ্ধক্ষেত্র, যেটার আবহাওয়া চরম প্রতিকূল। কিন্তু সেখানে সেনা রয়েছে কম এবং ৩০ বছর ধরে সেখানে বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত তিন মাস ধরে লাদাখের এলএসি এলাকায় চীন আর ভারত উভয়েই বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, অবকাঠামোর সঙ্কটের কারণ হলো লাদাখ এলাকায় এত বেশি সংখ্যা সেনাদের যাতায়াতের প্রয়োজন পড়বে, এটা আগে কখনও ভাবা হয়নি।

এই চ্যালেঞ্জের সাথে পরিচিত একটি প্রতিরক্ষা সূত্র দ্য প্রিন্টকে জানিয়েছে, “চরম আবহাওয়ার কারণে পূর্ব লাদাখ এলাকায় অবকাঠামোগুলোর অবস্থার অবনতি হচ্ছে অব্যাহতভাবে। তাছাড়া সেখানে মোতায়েনের জায়গাও সীমিত”।

দ্বিতীয় একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে বলেছে যে, সেখানে যে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, এ অবস্থায় সেখানে থাকার জন্য কোয়ার্টার নির্মাণ করা দরকার। এলএসির কাছাকাছি এবং কিছুটা ভেতরে কোয়ার্টার নির্মাণ করা দরকার যেখানে অতিরিক্ত সেনারা থাকবে এবং যে কোন জরুরি মোতায়েনের সময় তারা প্রস্তুত থাকবে।

সূত্র বলেছে, “আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো এই মুহূর্তে ঠিক কি পরিমাণ অবকাঠামো তৈরি করতে হবে, সেটি নির্ধারণ করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ, কারণ এলএসিতে যদি দুই দেশ সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে রাজি হয়, সে ক্ষেত্রে অনেকগুলো অবকাঠামোই আর লাগবে না”।

সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী অনেকটা অস্থায়ী পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। বিদ্যমান কিছু গুদাম ফ্যাসিলিটিকে সেনাদের থাকার কোয়ার্টারে রূপ দেয়া হচ্ছে।

‘সীমিত ওয়ার্কিং সেশানটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

আরেকটা চ্যালেঞ্জ হলো সেনাদের জন্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এ অঞ্চলে যদিও অনেকগুলো নদী রয়েছে, কিন্তু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, উৎস থেকে পানি নিয়ে উচ্চতায় এবং ক্যাম্পিং এলাকাতে পৌঁছানো এবং সেখানে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা – সব কিছুর জন্য পরিকল্পনা এবং সেটার বাস্তবায়ন দরকার।

প্রথম সূত্রটি জানিয়েছে, “সম্পদের পরিমাণ সীমিত এবং রোড সংকীর্ণ হওয়ায় এটা দিকে এক মুখেই শুধু যাতায়াত করা যায় এবং সে কারণে ঘুরে আসতে অনেক সময় লেগে যায়”।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কাজের সময়কালটা সীমিত, যেটা অক্টোবরে শেষ হবে। এর পরে নতুন করে আর কাজ শুরু করা যাবে না।

দ্বিতীয় সূত্রটি জানায় আমাদের একটা বুঝতে হবে যে, সেনাদের সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে এবং সে কারণে বিদ্যমান অবকাঠামোর উপর চাপটা অনেক বেশি।

Back to top button
Close
Close