কৃষি

উপকূলে বর্ষাকালীন শিম চাষে সাফল্য

খুলনা সংবাদদাতা: খুলনা উপকূলীয় অঞ্চলে অনাবাদি ও পতিত জমিতে কৃষক বর্ষাকালীন আগাম জাতের শিম চাষে সাফল্য পেয়েছেন। ফলে ঘুরতে শুরু করেছে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা। এ বছর ১০ জন কৃষক ৩৩৩ শতক জমিতে শিমের চাষ করেছেন, তার মধ্যে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাপপুর ইউনিয়নে ৪টি, খর্ণিয়া ইউনিয়নে ৫টি এবং বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ১টিসহ মোট ১০টি গবেষণা প্লট স্থাপন করা হয়।

প্রতি প্লটে ১ জন করে ১০ জন কৃষকই আগাম জাতের শিমের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এর গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক।

সে জানায়, এ প্রকল্প লবণাক্ত এলাকায় পুকুর ও ঘেরের পাশে পতিত জমিতে অসময়ের সবজি চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, কীটনাশক, সার, বীজ, মাচা তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। শিম একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ সবজি। এর বিচিও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়। এটি জমি ছাড়াও রাস্তার ধারে, আইলে, ঘরের চালে, এমনকি গাছেও ফলানো যায়। বর্ষাকালে সেচের তেমন প্রয়োজনও হয় না। ফলে কৃষকরা সহজেই লাভবান হন।

এসআরডিআই’র তথ্যমতে, উপকূলীয় অঞ্চলে মোট ৩১ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর, যা মোট আবাদযোগ্য জমির ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ।

ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া গ্রামের চাষি রেজাউল মোড়ল বলেন, এসআরডিআই এর অঙ্গ প্রকল্পের সহযোগিতা নিয়ে তিনি রাস্তার পাশের পতিত জমিতে শিম চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। গত বছরও তিনি এভাবে শিম চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন। তাই এ বছরও চাষে উদ্ধুদ্ধ হন। ডুমুরিয়ার শরাপপুর গ্রামের চাষি সিরাজ মোল্লা বলেন, শিম চাষের ক্ষেত্রে তিনি ঘেরের পাড়ের মাটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গত বছর বেশি ফলন পেতে সক্ষম হন। সব ঠিক থাকলে এবারও লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

Back to top button
Close
Close