কৃষি

খাঁচায় মাছ চাষে সফল

নিউজ ডেস্ক: চলমান পরিস্থিতির প্রভাবে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন খোলা নিরাশয়ে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করে ব্যাপক সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। সাফল্য অর্জনের জন্য তারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ উৎপাদন দ্বিগুণ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতে ৩ বছর আগে শিরুাইল, শেখপুর ও বাসকান্দি ইউনিয়নে খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ শুরু করেন মৎস্য চাষিরা। পরে বাসকান্দি ইউনিয়নের বিলপদ্ম নদীর সংলগ্ন অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়ে। পদ্ধতি অনুসারে, বড় খাঁচা বাঁশ এবং জাল দ্বারা তৈরি করা হয়। ড্রামগুলোকে নদীতে ভাসমান করে তুলতে খাঁচার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পরিদর্শনে শিরুয়াইল ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর ভাসমান খাঁচার অ্যারে পাওয়া গেছে। মৎস্য চাষিরা মূলত এ পদ্ধতি ব্যবহার করে মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের চাষ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মাছের মতো যেমনÑ কই, শিং, মাগুর এবং গ্লাসকার্পও এভাবে চাষ করা হয়।

শিরাইল গ্রামের মজিদ মাতবর, আজাহার বেপারি ও তাহের আকন জানান, প্রথমে চাষ শুরু করতে তারা স্থানীয় এনজিওর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে ২০১৫ সালে খাঁচায় মাছ চাষ সম্পর্কে সম্ভাবনা এবং একটি সংবাদপত্রের লেখা দেখে পাশে শেখপুর গ্রামের ২০ বেকার যুবক নিজ অর্থায়নের মাধ্যমে চাষ শুরু করেন।

শেখপুর গ্রামের তানজিল আহমেদ খান জানান, জমি বিক্রি করে তিনি ২০১৫ সালে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ১০টি খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেন। খাঁচাগুলোকে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয় করে উন্নীত করেন। এখন রয়েছে বাড়ির কাছে আড়িয়াল খাঁ নদীর ২৬৫ খাঁচা। তিনি আরও জানান, এখানে তেলাপিয়া মাছের চাষ জনপ্রিয়। জুলাই মাসে চাষ শুরু হয় এবং ৩ থেকে ৫ মাস পর মাছগুলো বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়। প্রতি খাঁচা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০ কেজি তেলাপিয়া মাছ সংগ্রহ করা হয় এবং প্রতি কেজি মাছ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এ সাফল্য দেখে শিরুয়াইল গ্রামের বেকার যুবক কামরুল, দেওয়ান, খোকন তালুকদার ও অপূর্ব দাশ একই পদ্ধতিতে মাছের চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এসব মৎস্য চাষি ২০ খাঁচা থেকে সহজেই মাসে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার লাভ করতে পারেন। এ মাছ চাষে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের কাজে সহায়তা করেন। শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম সামচুজ্জামান জানান, যেহেতু এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ স্বল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায়; তাই কৃষকদের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

Back to top button
Close
Close