শিক্ষা

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড়, অভিভাবক কমিটি যা বলছেন

নিউজ ডেস্ক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। ফোনালাপের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। কোনো … বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগব। শুধু ভিকারুননিসা না, আমি তাকে দেশ ছাড়া করব।’ অধ্যক্ষ ও ভিএনএসসির অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মধ্যকার চার মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ধরে চলা ওই কথোপকথন এখন আলোচনার শীর্ষে। সেই ফোনালাপে এমন কিছু অকথ্য ভাষা রয়েছে যা প্রকাশের অযোগ্য। দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের মুখ থেকে এমন অশ্রাব্য ভাষায় বের হওয়ায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফোনালাপে এমন অশ্রাব্য বাক্য বিনিময়ের কারণে তীব্র সমালোচনা হয়। বিশেষ করে অধ্যক্ষের এমন বক্তব্যে দেশের অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ বিব্রতবোধ করেন।

ফাঁস হওয়া ওই অডিও ভিএনএসসির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হেনেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা। তারা বলেন, অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এ বছরের প্রথম দিন এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি বললেই চলে। কেউতাকে প্রতিষ্ঠানে আসার বিষয়ে অনুরোধ করলে কামরুন নাহার সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে যা বলছেন অভিভাভকরা
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল কামরুন নাহার ও অভিভাববক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মধ্যকার ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ধরে অধ্যক্ষ ও ভিএনএসসির অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মধ্যে চলা ওই কথোপকথন এখন টক অব দ্যা টাউন।

ফাঁস হওয়া এই অডিও কথোপকথনকে ভিএনএসসির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা। তারা বলেন, এই অধ্যক্ষ এ বছরের প্রথম দিন যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি বললেই চলে। কেউ যদি তাকে প্রতিষ্ঠানে আসার বিষয়ে অনুরোধ করেন, তিনি (কামরুন নাহার) সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি শুধু শিক্ষক নন, বড় রাজনীতিক এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মন্ত্রী, সচিবালয় এবং সরকারের শীর্ষপর্যায় পর্যন্ত তার পক্ষে আছে বলেও দাবি করেন।

অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মজিদ সুজন অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে বলেন, কামরুন নাহার যোগদানের পর থেকে কলেজের বাসভবনে থাকলেও তিনি কখনো নিজ অফিসে বসেন না। অভিভাবকরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও কারও সঙ্গে তিনি দেখা করেন না। ভিকারুননিসার যেসব শিক্ষার্থীর অভিভাবক মারা গেছেন তাদের বিনা বেতনে পড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি অধ্যক্ষ। সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার স্কুলের জন্য সময় দিতে পারেন না বলে অধ্যক্ষ বেপরোয়া হয়ে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

এর আগে গত ১৯ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গরুর হাট বসিয়ে অনিয়ম করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের অপসারণ দাবি করেন অভিভাবকদের একাংশ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভিএনএসসি অভিভাবক ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মজিদ সুজন বলেন, ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফখরুদ্দিন বিরানি হাউজ অ্যান্ড ডেকোরেটর অবৈধভাবে গরু-ছাগলের হাট বসায়। সেটি অভিভাবকদের নেতৃত্বে গত শুক্রবার (১৬ জুলাই) উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের মদদে অবৈধ গরু-ছাগলের হাট বসানো হয়েছিল। এজন্য অধ্যক্ষকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে তিনি বলেন, কামরুন নাহার যোগদানের পর থেকে কলেজের বাসভবনে থাকলেও তিনি কখনো নিজ অফিসে বসেন না। অভিভাবকরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও কারও সঙ্গে তিনি দেখা করেন না। ভিকারুননিসার যেসব শিক্ষার্থীর অভিভাবক মারা গেছেন তাদের বিনা বেতনে পড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি অধ্যক্ষ। সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার স্কুলের জন্য সময় দিতে পারেন না বলে অধ্যক্ষ বেপরোয়া হয়ে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকরা বলেন, ভিকারুননিসার বেইলি রোড ক্যাম্পাসের মধ্যে ফখরুদ্দিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় স্কুল অ্যান্ড কলেজ খোলা থাকলে ক্যাম্পাসে তাদের ব্যবসা চলে। তারা অভিযোগ করেন, ১১ নম্বর গেট দিয়ে মেয়েদের প্রবেশ করতে হয়। এ সময় ফখরুদ্দিন বিরিয়ানির কর্মচারীরা খালি গায়ে ঘোরাফেরা করে। নোংরা পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর। আমরা অভিভাবকরা তার অবসান চাই। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত টিউশন ফি আদায় করা হলেও স্কুলে বিভিন্ন ধরনের ময়লা পড়ে এডিস মশার জন্ম নিলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। স্কুলের প্রতি তার কোনো আন্তরিকতা নেই।

মিজানুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘আমরা অভিভাবক হিসেবে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা যারা নষ্ট করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। ফখরুদ্দিন বিরিয়ানি অ্যান্ড ডেকোরেটরকে এ প্রতিষ্ঠান থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাই। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা কামরুন নাহারের অপসারণ চাই।’

Back to top button