অর্থ-বাণিজ্য

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সহায়তা দেওয়ারও দাবি জানায় সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ‘বিরাজমান পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক সভায় এসব দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। এফবিসিসিআই এ সভার আয়োজন করে।

সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন মেয়াদি ঋণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে চলমান ঋণ মঞ্জুর অব্যাহত রাখার কথা রয়েছে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মেয়াদি ঋণের সময়সীমা এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর পর্যন্ত রাখার বিধান রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়াদি ঋণের সময়সীমা এক বছর হয়ে থাকে। এর ফলে ঋণ পরিশোধে উদ্যোক্তাদের সমস্যা তৈরি হয়। এসএমই খাতের মেয়াদি ঋণের মেয়াদ ৭-১০ বছর করার সঙ্গে গ্রেস পিরিয়ড দুই বছর করা জরুরি। ঋণ যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় তাহলে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য ব্যাংকগুলোতে ডেডিকেট ডেস্ক চালু, এসএমই সার্ভিস সেন্টার চালু, নতুন ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্যে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কিছু ব্যাংকের ইতিবাচক এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনীহা রয়েছে। সব ব্যাংকের শাখাগুলোতে এসএমই’র সহায়তায় হেল্প ডেস্ক কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানাই। আবার অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারির পরও অধিকাংশ ব্যাংক নন-টেক্সটাইল খাতের রুগ্নশিল্পের দায়-দেনা নিষ্পত্তিতে অনাগ্রহ দেখায়। এটি অনিষ্পন্ন থাকায় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী অর্থ আদায় করা বিলম্বিত হচ্ছে।

এবিবির চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ব্যবসা ও অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে ব্যাংকাররা সব উদ্যোগ নেবে। তবে যেসব ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি রয়েছে তাদের ঋণ আদায়ে এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এসএমই নিয়ে তিনি বলেন, বড় ঋণ যত সহজে দেওয়া যায় এসএমই ঋণ তত সহজে দেওয়া যায় না। এসএমইসহ সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার নির্ধারণের পর খরচ বিবেচনায় অনেকে এ খাতে ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে প্রণোদনার আওতায় প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছে। বিতরণকৃত প্রণোদনার ঋণ ব্যাংকগুলোকে ফেরত আনতে হবে। প্রণোদনার ঋণ কোনো অনুদান না। ব্যাংকগুলো দেখে শুনে ঋণ দেবে এটাই স্বাভাবিক।

Back to top button