আন্তর্জাতিক

বদলে যাচ্ছে সৌদি আরবের পতাকা, থাকছে না কালেমা শরীফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পতাকা থেকে পবিত্র কালিমা শরীফ বাদ দিয়ে নতুন করে নিজেদের জাতীয় পতাকা, প্রতীক ও সঙ্গীত সংস্কারের সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে সৌদি আরবের মজলিশে শূরা। গত ৩১ জানুয়ারি শূরার নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয়ক কমিটির পর্যালোচনার পর এই সংস্কারের পক্ষে সম্মতি দেয়া হয়েছে বলে জানায় সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

নতুন পতাকাতে আর দেখা যাবে না পবিত্র কালিমা শরীফ। আরবী ও ইংরেজি ভাষায় লেখা থাকবে সৌদি আরবের নাম। সম্প্রতি দেশটির শূরা কাউন্সিল পতাকার প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাজকীয় ডিক্রির একটি খসড়া সংশোধনী অনুমোদনের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

সোমবার মজলিশে শূরার সদস্য সাআদ আল-উতাইবির প্রস্তাবের পর এতে অন্য সদস্যরা সম্মতি দেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, শূরার নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয়ক কমিটির সম্মতির পর জাতীয় পতাকা, প্রতীক ও সংগীত সংস্কারের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন এখন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।

এপির খবরে বলা হয়, সৌদির শূরা কাউন্সিলের সম্মতিই যে কোনো আইন বাস্তবায়ন ও সংস্কারে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে বাদশাহ’র অনুমোদন এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে পতাকা ও সংগীত পরিবর্তন করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের স্থানীয় একটি দৈনিকের খবরে হয়, সংস্কারে জাতীয় পতাকা ও সংগীতে কি পরিবর্তন হবে তা জানানো হয়নি, তবে এগুলোর আইনে সংশোধন আনা হবে। আইনে কী ধরনের সংশোধন আসতে পারে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানায়নি পত্রিকাটি।

ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল দেশ হিসেবেই পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু হাজার হাজার বছরের সেই ঐতিহ্য থেকে ক্রমেই বেরিয়ে আসছে দেশটি। এক্ষেত্রে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির যুবরাজ বিন সালমান।

সৌদির ইসলামী ঐতিহ্যকে ‘কট্টরপন্থা’ আখ্যা দিয়েছে। বিপরীতে দেশে ‘মধ্যপন্থার’ নামে কথিত আধুনিক পশ্চিমা কালচার প্রতিষ্ঠার কথা বলছে সে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, ‘মধ্যপন্থা’র নামে সে আসলে পশ্চিমা ভাবধারা ও সংস্কৃতিকেই আমদানি করছে।

বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এখন নামেমাত্র সৌদি শাসক। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা বিন সালমানের হাতেই। ২০১৭ সালে ছেলেকে ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ ঘোষণা করে বাদশাহ। সরিয়ে দেয় ভাতিজাকে। ভবিষ্যৎ বাদশাহির পথ সুগম হওয়ায় পর্দার আড়াল থেকে সামনে চলে আসে প্রিন্স সালমান।

সমাজ ও সংস্কৃতির ‘আধুনিকায়নে’ ভিশন-২০৩০ ঘোষণা দিয়েছে সে। সেই লক্ষ্যেই ইতিমধ্যে বহু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। গাড়ি চালানো, হলে গিয়ে সিনেমা ও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা এমনকি অভিভাবক ছাড়াই নারীদের হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন পশ্চিমা কনসার্টেরও আয়োজন করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, যা নিয়ে সারাবিশ্বে সমালোচনা চলছে।

Back to top button