আন্তর্জাতিক

দুর্নীতির মামলায় পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে আদালতের তলব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এক হাজার ৬০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি লুটপাটের মামলায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও তার ছেলে হামজা শেহবাজকে তলব করেছে লাহোরের বিশেষ একটি আদালত। অর্থপাচার মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য শনিবার আদালতে তাদের তলব করা হয় বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেহবাজ শরীফ ও হামজা শেহবাজের বিরুদ্ধে লাহোরের বিশেষ আদালতে মামলা দায়ের করে। তাদের বিরুদ্ধে চিনি কেলেঙ্কারির ওই মামলায় ১৬ বিলিয়ন রুপি পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, এই মামলায় ইতিমধ্যে পাক প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলে আগাম জামিন পেয়েছেন। শেহবাজের আইনজীবী আমজাদ পারভেজ আদালতকে বলেছেন, ‌প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের শরীর ভালো নয়। যে কারণে তাকে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গতকাল বৈরী আবহাওয়া ছিল। তাই তিনি আজ আসেননি।

হামজার আইনজীবী রাও আওরঙ্গজেব বলেছেন, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতার পিঠে তীব্র ব্যথা রয়েছে। আদালতের হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের সঙ্গে তিনি মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

পাক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে এ বিষয়ে লাহোরের বিশেষ আদালতে শেহবাজ, তার দুই ছেলে হামজা ও সুলেমানসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফআইএ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে আখ ক্রয়, চিনি উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি লোপাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে শেহবাজ শরীফ, তার দুই ছেলে ও এজাহারভূক্ত অন্যান্য আসামিদের। পাঞ্জাব প্রদেশের কয়েকজন চিনি কল মালিকও এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।

এতে আরও বলা হয়, বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে শেহবাজের পরিবারের সদস্যদের বেনামে ২৮টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেসব ব্যাংকে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে এ অর্থ। রাজনীতির পাশপাশি চিনির ব্যবসা রয়েছে পাকিস্তানের শরীফ পরিবারের। আল-আরাবিয়া মিলস নামে একাধিক চিনির কারখানা রয়েছে এই পরিবারের।

শেহবাজ শরীফ অবশ্য বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানে রাজনীতি ও নির্বাচন করার অধিকার হারাবেন তিনি।

তার বড় ভাই ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধেও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রাজনীতি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়ে আর দেশে ফেরেননি তিনি।

Back to top button